InShot 20260121

মনিপাল ফেরাল হাঁটার স্বপ্ন!

কলকাতা, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬: পরপর দুইটি অত্যন্ত জটিল মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচারে সাফল্য অর্জন করে এক কিশোরী ও এক প্রবীণ মহিলার স্বাভাবিক চলাফেরা ফিরিয়ে দিল মণিপাল হাসপাতাল, মুকুন্দপুর। পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী মণিপাল হসপিটালস গ্রুপ-এর এই ইউনিটে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই ভিন্ন বয়সের রোগীর জীবনযাত্রার মানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এই অস্ত্রোপচারগুলি সম্পন্ন হয় ডা. অনিন্দ্য বসু, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ক্লিনিক্যাল লিড – স্পাইন সার্জারি, মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর-এর তত্ত্বাবধানে।

এই দুই রোগীর মধ্যে একজন ছিলেন ৬৭ বছর বয়সি সীমা দে (নাম পরিবর্তিত) এবং অন্যজন ১৪ বছর বয়সি ছাত্রী আরশিয়া আহমেদ (নাম পরিবর্তিত)। দীর্ঘদিনের তীব্র মেরুদণ্ডের সমস্যার কারণে সীমা দে কার্যত হাঁটাচলা করতে অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন। অন্যদিকে, মেরুদণ্ডের যক্ষ্মায় আক্রান্ত আরশিয়া গুরুতর স্নায়বিক জটিলতায় ভুগছিলেন, যার ফলে তাঁর চলাফেরা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সময়োপযোগী অস্ত্রোপচার, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে দু’জনেই আবার হাঁটার ক্ষমতা ফিরে পান।

কলকাতার বাসিন্দা সীমা দে কয়েক মাস ধরে তীব্র কোমর ব্যথা ও পায়ে ছড়িয়ে পড়া যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। পরীক্ষায় ধরা পড়ে, স্নায়ুর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার ফলে তাঁর চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। পাঁচ মিনিটের বেশি হাঁটাও তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। আধুনিক মিনিমালি ইনভেসিভ কিহোল টিউবুলার লাম্বার ফিউশন সার্জারির মাধ্যমে কম টিস্যু ক্ষতিতে মেরুদণ্ডকে স্থিতিশীল করা হয়। অস্ত্রোপচারের পরের দিন থেকেই তাঁকে হাঁটানো সম্ভব হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি নিজে নিজে হাঁটতে সক্ষম হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান।

অন্যদিকে, টপসিয়ার বাসিন্দা নবম শ্রেণির ছাত্রী আরশিয়া আহমেদ ভর্তি হন দুই পায়ে চরম দুর্বলতা নিয়ে। মেডিক্যাল ইমেজিংয়ে ধরা পড়ে মেরুদণ্ডের যক্ষ্মা, যার ফলে হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে স্পাইনাল কর্ডের উপর গুরুতর চাপ পড়ছিল। জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করে পুঁজ অপসারণ, মেরুদণ্ডের স্থিতিশীলতা এবং স্নায়ুর উপর চাপ কমানো হয়। অস্ত্রোপচারের পর ধীরে ধীরে আরশিয়া পায়ের শক্তি ফিরে পান এবং চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টদের সহায়তায় আবার হাঁটার সক্ষমতা অর্জন করেন। বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি বিশ্রামে রয়েছেন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হলে আবার স্কুলে ফিরতে পারবেন।

চিকিৎসার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সীমা দে বলেন, অস্ত্রোপচারের আগে কয়েক কদম হাঁটাও ছিল অসহ্য যন্ত্রণার। অস্ত্রোপচারের পর আবার স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারা তাঁর কাছে নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার মতো। আরশিয়ার বাবা জানান, সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত ও চিকিৎসার ফলেই তাঁদের মেয়ে আবার হাঁটতে পারছে, যা তাঁদের কাছে আশীর্বাদস্বরূপ।

এই সাফল্য প্রসঙ্গে ডা. অনিন্দ্য বসু বলেন, রোগ নির্ণয়ে দ্রুততা, উন্নত অস্ত্রোপচার পদ্ধতি এবং বহুমুখী চিকিৎসা ব্যবস্থাই এই দুই রোগীর ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা নিয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে রোগীদের আবার হাঁটতে দেখা চিকিৎসক দলকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

এই পরপর দুই সাফল্যের মাধ্যমে মণিপাল হাসপাতাল, মুকুন্দপুর আবারও প্রমাণ করল যে আধুনিক প্রযুক্তি ও রোগী-কেন্দ্রিক সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে জটিল স্পাইন সমস্যারও সফল সমাধান সম্ভব।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *