IMG 20260123 WA0016

বইমেলায় জমজমাট হাইকোর্টের মিডিয়েশন কমিটির স্টল

মোল্লা জসিমউদ্দিন

সল্টলেকের করুণাময়ী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সেন্ট্রাল পার্কে ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা, যা চলবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। দেশ–বিদেশের নানা ধরনের বইয়ের সম্ভারে বইপ্রেমীদের ভিড় জমেছে মেলা চত্বরে।

এবার বইমেলার ৫ নম্বর গেটের কাছে ৩২৫ নম্বর স্টলে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের মিডিয়েশন অ্যান্ড কনসিলিয়েশন কমিটি। প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক মানুষ এই স্টলে এসে মিডিয়েশন পদ্ধতি সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্টের অধীনে মিডিয়েশন কমিটি কীভাবে মামলার জট কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে, তা বিভিন্ন প্রকাশনার মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি কমিটির সদস্যরা সরাসরি দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে মিডিয়েশনের গুরুত্ব ও কার্যপ্রণালি ব্যাখ্যা করছেন। স্টলে আগতদের হাতে মিডিয়েশন সংক্রান্ত লিফলেট ও বই তুলে দিচ্ছেন মিডিয়েশন অফিসের কর্মীরা—মহম্মদ নৌশাদ, সুপ্রিয় বনিক, সুমন দাস ও সায়ন চ্যাটার্জি।

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নির্দেশে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এবং মেম্বার সেক্রেটারি সুদীপ ব্যানার্জির পরিচালনায় মিডিয়েশন কমিটি সারা রাজ্যজুড়ে সারা বছর ধরে কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার ইনসলভেন্সি ও মিডিয়েশন কমিটির ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ড. শুভাশিস মুহুরী জানান, ২০০৯ সাল থেকে কলকাতা হাইকোর্টে এই কমিটির কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে মিডিয়েটরদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও বিচারক, প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক, আইনজীবী, স্থপতি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

তিনি আরও জানান, কলকাতা হাইকোর্টের পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে মোট ৭২টি এডিআর বা বিকল্প বিবাদ নিষ্পত্তি কেন্দ্রের মাধ্যমে মিডিয়েশনের সাহায্যে মামলার নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। গোপনীয়তা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে কীভাবে দু’পক্ষের বিবাদ মীমাংসা করা সম্ভব, সেই বার্তাই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই বইমেলায় এই স্টল আয়োজন করা হয়েছে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *