তাপস রায়, আজটকস: কথায় আছে বাপ কা বেটা, সিপাহী কা ঘোড়া…! এই প্রতিবেদনে এমন একজন ক্ষুদে প্রতিভাবান এর কথা তুলে ধরতে চেষ্টা করছি যার মধ্যে বাবার মত খেলার প্রতি অদম্য আগ্রহে মিল থাকলেও, বাবার মত বলিষ্ঠ অভিনেতা হওয়ার কোন আগ্রহ দেখা যায়নি কোনদিনই। কিন্তু তা বলে কখনোই মন খারাপ করেননি বাবা। বরং ছেলে আরিয়ানকে জুনিয়র ক্রিকেটারের ছোট বাউন্ডারি টপকানোর স্বপ্ন দেখান নিজেই।

আরিয়ান নামের অর্থ যোদ্ধা বা পালোয়ান। আর সেই নামের মর্যাদা রেখে ছোটবেলা থেকে লড়াই করে এগিয়ে চলেছে বেহালার আরিয়ান ব্যানার্জী। ময়না ব্যানার্জী ও অর্ণব ব্যানার্জীর একমাত্র পুত্র আরিয়ান বর্তমানে ইস্টবেঙ্গল ক্রিকেট স্কুলের শিক্ষার্থী এবং ডিপিএস জোকার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। শৈশব থেকেই ব্যাট-বলের ঠোকাঠুকি তার জীবনের অন্যতম আনন্দ হয়ে উঠেছিল। তাই কৈশোরে পা দিতেই সেই নিছক ভালোলাগা রূপ নেয় লক্ষ্যে।

পড়াশোনায় মেধাবী হওয়ার পাশাপাশি ক্রিকেটকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে চলেছে আরিয়ান। যেন দুটি সমান্তরাল পথে সমান তালে দৌড়চ্ছে তার স্বপ্ন। বাবা ফুটবলপ্রেমী হলেও স্কুলজীবনের শুরুতেই ক্রিকেটকে আপন করে নেয় আরিয়ান। ধোনি ও রোহিত শর্মার ব্যাটিং তাকে অনুপ্রাণিত করে। যদিও অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে এই খুদে ক্রিকেটার। আর কোচ শমিক স্যারের তত্ত্বাবধানে আরও শাণিত হচ্ছে তার দক্ষতা।
অভিনয় জগতের সঙ্গে পারিবারিক যোগাযোগ থাকলেও, আরিয়ান জানায় যে ক্রিকেটই এখন তার একমাত্র ধ্যানজ্ঞান। নিজের নামের পরিচিতি ছাপিয়ে আলাদা সত্তা গড়ে তুলতে যে অধ্যবসায় দরকার, তা সে অল্প বয়সেই বুঝে গেছে। তাই অভিভাবকদের দৃঢ় বিশ্বাস, ইস্টবেঙ্গল ক্রিকেট স্কুলের বহু শিক্ষার্থীর ভিড়ে, নিজস্ব প্রতিভা ও পরিশ্রমে আলাদা করে নজর কাড়বে আরিয়ান।

বড় হয়ে সফল ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন সে বুকে লালন করছে, আর সেই স্বপ্নপূরণের পথে তাকে নিরন্তর উৎসাহ দিয়ে চলেছেন তার প্রিয় শমিক স্যার। মা , বাবার পাশাপাশি তার ঠাকুমা, দাদু অমর কৃষ্ণ মজুমদার,দিদা শিপ্রা মজুমদারের অটুট সমর্থন ও নিয়মিত সাধনায় আরিয়ান আজ আরও আত্মবিশ্বাসী, আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ; ক্রিকেটের সবুজ মাঠেই একদিন নিজের স্বপ্নের পতাকা ওড়ানোর লক্ষ্যেই তার এগিয়ে চলা। যে বেহালা বাঙ্গালীকে ক্রিকেট এ স্বপ্ন কে জয় করতে শিখিয়েছিল সেই বেহালারই পর্ণশ্রীর বাসিন্দা আরিয়ান তার স্বপ্নকেও জয় করবে বলে আশা রাখে বেহালাবাসী।

