শিলিগুড়ি, ২ মার্চ ২০২৬: মণিপাল হসপিটাল রাঙাপানি, মণিপাল হসপিটালস গ্রুপের অন্যতম প্রধান ইউনিট, রেডিয়েশন থেরাপি চলাকালীন বা সদ্য চিকিৎসা সম্পন্ন করা রোগীদের হোলির সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে, যাতে ত্বকের অতিসংবেদনশীলতা, অ্যালার্জি এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের জটিলতা এড়ানো যায়।
রেডিয়েশন থেরাপির ফলে চিকিৎসাকৃত ত্বকের অংশ অত্যন্ত সংবেদনশীল, নাজুক এবং সহজেই জ্বালা বা প্রদাহের শিকার হতে পারে। বর্তমানে যেসব রোগী রেডিয়েশন থেরাপি নিচ্ছেন, তাঁদের চিকিৎসাকৃত স্থানে চিকিৎসকের পরামর্শে নির্ধারিত মলম ছাড়া অন্য কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার না করার জন্য কঠোরভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃত্রিম রংযুক্ত রাসায়নিক পদার্থ চিকিৎসাকৃত ত্বকের সঙ্গে প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। কেউ যদি উৎসবে অংশ নিতে চান, তবে খুব সতর্কতার সঙ্গে শরীরের অল্প একটি অংশে রং ব্যবহার করতে হবে এবং অবশ্যই চিকিৎসাকৃত অংশ এড়িয়ে চলতে হবে। কৃত্রিম রঙের পরিবর্তে প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করাই উত্তম।
যেসব রোগী সফলভাবে রেডিয়েশন থেরাপি সম্পন্ন করেছেন এবং তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে সেরে উঠেছেন, তাঁদেরও সতর্ক থাকা জরুরি। উৎসবের সময় খাদ্যাভ্যাসের বিষয়ে বিশেষভাবে সচেতন থাকতে হবে, কারণ এই সময় রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাধারণত কম থাকে। এছাড়াও অ্যালকোহল, ভাঙ ইত্যাদি মাদকজাতীয় পানীয় সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলি রোগীর স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে ফুসফুসের ক্যানসার রোগীদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। রেডিয়েশন থেরাপি, কেমোথেরাপি চলাকালীন অথবা চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরের সময়ে গুঁড়ো রঙের সংস্পর্শ সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলি অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট বা পূর্ববর্তী শ্বাসযন্ত্রের সমস্যাকে (যেমন সিওপিডি) আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ডা. পৃথ্বিজিত মৈত্র, অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট – রেডিয়েশন অনকোলজি, মণিপাল হসপিটাল, রাঙাপানি বলেন, “রেডিয়েশন থেরাপির ফলে ত্বকের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পরও কিছু সময় পর্যন্ত ত্বক ও অভ্যন্তরীণ টিস্যু দুর্বল থাকে। হোলির সময় রোগীদের চিকিৎসাকৃত স্থানে রাসায়নিক রং প্রয়োগ করা এবং জোরে ঘষে পরিষ্কার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ফুসফুসের ক্যানসার রোগীদের গুঁড়ো রঙের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ রং শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা দেখা দিতে পারে। উৎসব অবশ্যই উপভোগ করা যায়, তবে অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে নিরাপত্তা ও সংযম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
মণিপাল হসপিটাল, রাঙাপানি রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের উৎসবের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট অনকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে নিরাপদ ও সুস্থভাবে উৎসব উদযাপন করা যায়।

Posted inCitylights