তাপস রায়, কলকাতা: নৃত্যের ভাষায় স্মৃতি, সাধনা ও স্বপ্নের অপূর্ব মেলবন্ধনে সরশুনা সপ্তর্ষি নৃত্য সংস্থার দশম বার্ষিক নৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর বেহালা শরৎ সদন প্রেক্ষাগৃহে, যা একই সঙ্গে সংস্থার গৌরবময় শিক্ষাযাত্রার ২০ বছরে পদার্পণের এক অনন্য উদযাপন হয়ে উঠল। এই দীর্ঘ ও সৃজনশীল পথচলার প্রাণপুরুষ বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী, গুরু ও প্রধান অধিকর্তা শ্রী প্রশান্ত চ্যাটার্জী, যাঁর গভীর শাস্ত্রীয় জ্ঞান, কঠোর শৃঙ্খলা ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি বাংলা নৃত্যজগতে একটি স্বতন্ত্র ও সম্মানজনক ধারার সৃষ্টি করেছে।

তাঁর নেতৃত্বে সপ্তর্ষি কেবল একটি নৃত্যপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং চরিত্র গঠন, মানবিক মূল্যবোধ ও শৈল্পিক সংবেদনশীলতা বিকাশের এক সাধনক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে; শাস্ত্রীয় ঘরানার মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে তিনি যে সমকালীন নৃত্যভাষা নির্মাণ করেছেন, তা তাঁর ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনায় বারবার দর্শকের মন ছুঁয়ে গেছে।

এই বছরের অনুষ্ঠানে তাঁর তত্ত্বাবধানে এবং সহকারী শিক্ষিকা রেশমী অধিকারী চ্যাটার্জী, সৌমিলী দাস পাঁজা, মোনালিসা ভট্টাচার্য্য ও পুনম দাসের সুচারু নির্দেশনায় প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন, যেখানে ভরতনাট্যম, সৃজনশীল নৃত্য, আধুনিক, লোকনৃত্য ও বলিউড ঘরানার বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা দুই দিনব্যাপী মঞ্চকে করে তোলে প্রাণবন্ত।

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মূকাভিনয় শিল্পী শ্রী দিলীপ ভট্টাচার্য্যের গভীর ভাবব্যঞ্জক পরিবেশনা এবং বিশিষ্ট কত্থক নৃত্যশিল্পী শ্রীমতি ময়ূরী ব্যানার্জির মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনা উৎসবের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রশান্ত চ্যাটার্জীর সুদীর্ঘ সাধনা ও দিশানির্দেশনায় গড়ে ওঠা বহু প্রজন্মের শিক্ষার্থী আজ রাজ্য ও জাতীয় স্তরে নৃত্যজগতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সুনাম অর্জন করেছেন, যা তাঁর শিক্ষকতা ও শিল্পভাবনার উজ্জ্বল স্বীকৃতি; শুদ্ধ শিল্পচর্চা, নিরলস অনুশীলন ও নৈতিক মূল্যবোধের বীজ বপনের এই অবিচ্ছিন্ন প্রয়াসেই সরশুনা সপ্তর্ষি আজ এক জীবন্ত সাংস্কৃতিক পরিসর, আর দশম বর্ষের এই নৃত্যানুষ্ঠান সেই দুই দশকের সাধনা ও সৃজনশীল অভিযাত্রারই এক গৌরবোজ্জ্বল দলিল।

