InShot 20260228

রোদ কম? শরীরে বাড়ছে ঝুঁকি!

তাপস রায়,কলকাতা:Suraksha Diagnostic Limited (সুরক্ষা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকস) কলকাতার একবালপুর কেন্দ্রে ‘ভিটামিন ডি সংকট: শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক’ শীর্ষক এক ইন্টারঅ্যাকটিভ বিশেষজ্ঞ বৈঠকের আয়োজন করল ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন জেনারেল মেডিসিন বিভাগের ডা. সৌমদীপ দাস এবং অর্থোপেডিক বিভাগের ডা. শৌভিক বর্ধন, উভয়েই সুরক্ষা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকসের একবালপুর কেন্দ্রের পরামর্শদাতা চিকিৎসক। বৈঠকে চিকিৎসকেরা জানান, ভিটামিন ডি-র ঘাটতি বর্তমানে এক নীরব কিন্তু ব্যাপক স্বাস্থ্যসংকটে পরিণত হয়েছে, যার মূল কারণ দীর্ঘ সময় ঘরের মধ্যে থাকা, পর্যাপ্ত রোদ না পাওয়া, দূষণ, সানস্ক্রিনের ব্যবহার এবং খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি রিকেটস, হাড়ের বিকৃতি, বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণ হতে পারে, আর প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে হাড় নরম হয়ে যাওয়া, অস্টিওপোরোসিস, পেশির দুর্বলতা, ঘনঘন পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দেখা দেয়, পাশাপাশি হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অটোইমিউন রোগ ও কিছু ক্যানসারের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন। বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী ভারতে ভিটামিন ডি-র ঘাটতির হার উদ্বেগজনক, কিছু অঞ্চলে তা ৭০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে, বিশ্বজুড়ে এক বিলিয়নেরও বেশি মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়। চিকিৎসকেরা আরও জানান, মুড পরিবর্তন, মনোযোগের অভাব, অকারণ ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, এমনকি মহিলাদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবজনিত অস্বস্তি অনেক সময় বার্ধক্য বা মানসিক চাপ বলে ধরে নেওয়া হলেও তা ভিটামিন ডি ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রায় প্রতি দুই জন ভারতীয়ের একজন জয়েন্ট পেইনের অভিযোগ করেন এবং দক্ষিণ ভারতের গ্রামীণ এলাকায় ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৩৪.৬ শতাংশের হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিস রয়েছে, মহিলাদের ক্ষেত্রে যার হার আরও বেশি, মেনোপজ-পরবর্তী হরমোনজনিত পরিবর্তনও এতে ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দশকে ভারতে শারীরিক অক্ষমতার চতুর্থ প্রধান কারণ হয়ে উঠতে পারে হাঁটুর আর্থ্রাইটিস এবং ৩০-এর কোঠায় থাকা বহু মানুষের এমআরআই পরীক্ষায় প্রাথমিক কার্টিলেজ ক্ষয়ের লক্ষণ ধরা পড়ছে। ডা. সৌমদীপ দাস বলেন, শিশুদের ভিটামিন ডি-র ঘাটতি শুধু হাড় দুর্বল করে না, ভবিষ্যতের সুস্থ জীবনের ভিত্তিকেই নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত করে, আর ডা. শৌভিক বর্ধনের কথায়, সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত রোদে থাকা এবং প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের মাধ্যমে ভাঙন, অস্টিওপোরোসিস ও মাংসপেশির ব্যথা অনেকটাই কমানো সম্ভব। সংস্থার চেয়ারম্যান ও যুগ্ম ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, এই বিশেষজ্ঞ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক পর্যন্ত ভিটামিন ডি ঘাটতি নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং নিয়মিত পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা। সুরক্ষা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকস ভিটামিন ডি পরীক্ষার সুবিধা এবং হোম কালেকশন পরিষেবা প্রদান করে, যাতে মানুষ সহজেই পরীক্ষা করিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন; ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা বর্তমানে পূর্ব ভারতের অন্যতম শীর্ষ ডায়াগনস্টিক পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এবং প্যাথোলজি ও রেডিওলজি মিলিয়ে ২৩০০-রও বেশি পরীক্ষার সুবিধা দিয়ে চারটি রাজ্যে কেন্দ্রীয় রেফারেন্স ল্যাব, একাধিক স্যাটেলাইট ল্যাব, উন্নত ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বহু স্যাম্পল কালেকশন কেন্দ্রের মাধ্যমে পরিষেবা প্রদান করছে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *