তাপস রায়,কলকাতা: বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সুর ও সংগীতকে হাতিয়ার করেছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী ভূপেন হাজারিকা। তাঁর জন্মশতবর্ষে সেই অনন্য ভূমিকার কথা স্মরণ করে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করল দ্য সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (SAB)। বুধবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উঠে এল বিজ্ঞানভিত্তিক সংগীতে ভূপেন হাজারিকার অবদানের নানা দিক।
SAB-এর উদ্যোগে এবং ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দফতরের সহযোগিতায় ১৯৯০-এর দশকের গোড়ায় প্রকাশিত হয়েছিল বাংলা বিজ্ঞানভিত্তিক গানের একটি ক্যাসেট। বিশিষ্ট গীতিকার প্রিয় চট্টোপাধ্যায়ের কথায় এবং সুরকার গৌতম বসুর সুরে তৈরি সেই ক্যাসেটে কণ্ঠ দিয়েছিলেন ভূপেন হাজারিকা, ইন্দ্রাণী সেন, রামকুমার চট্টোপাধ্যায়, শক্তি ঠাকুর-সহ বিশিষ্ট শিল্পীরা। পরবর্তীতে গানগুলির অসমিয়া সংস্করণও রেকর্ড করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, বিজ্ঞান ও সমাজের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে ওই সংগীত-প্রয়াসে ভূপেন হাজারিকার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। SAB-এর সচিব ড. শুভব্রত রায়চৌধুরী, সুরকার গৌতম বসু এবং গীতিকার প্রিয় চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যে সেই স্মৃতি ফিরে আসে। অনুষ্ঠানে ভূপেন হাজারিকার বিজ্ঞানভিত্তিক গান ‘সর্বজনীন হোক কল্যাণ’ পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পী পণ্ডিত রাজীব কর চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব ইন্ডিয়ার প্রাক্তন সভাপতি ড. দেবাশিস মিত্র। ভূপেন হাজারিকার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তাঁর স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানলেখক অধ্যাপক ড. শ্যামল চক্রবর্তীও।
এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের সংবর্ধনা জানান SAB-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয় SAB-এর বিশেষ সংখ্যা ‘Tribute to Bhupen Hazarika – Centenary’। গান, আলোচনা ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে বিজ্ঞানমনস্কতা ও মানবিকতার বার্তা বহনকারী ভূপেন হাজারিকার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনেই শেষ হয় জন্মশতবর্ষের এই বিশেষ আয়োজন।
