IMG 20260916

স – জ্ঞানেই ব্রহ্মাণ্ড দর্শন নিউ টাউনে

সনাতন থেকে বিজ্ঞান’: প্রাচীন জ্ঞানচর্চা থেকে আধুনিক বিজ্ঞানের সেতুবন্ধ

কলকাতা: দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এবার শুধু ধর্মীয় আবহ বা দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জা নয়, প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞানচর্চা থেকে বিজ্ঞানের বিকাশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে চলেছে নিউটাউনের সনাতনী দুর্গাপুজো কমিটি। এবারের ভাবনা ‘সনাতন থেকে বিজ্ঞান’। প্রাচীন ভারতে গণিত, চিকিৎসা, স্থাপত্য, জ্যোতির্বিদ্যা ও প্রকৃতিকে পর্যবেক্ষণ করে যে জ্ঞানচর্চার বিকাশ ঘটেছিল, তার সঙ্গে বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির যোগসূত্রই হবে এই প্রদর্শনীর মূল বিষয়।

প্রদর্শনীতে দেখানো হবে, জ্ঞানচর্চা কীভাবে পর্যবেক্ষণ, পরিমাপ, গণনা ও প্রয়োগের মাধ্যমে এগিয়ে যায়। যেমন, শূন্যের ধারণা ও দশমিক পদ্ধতি শুধু প্রাচীন গণিতের ইতিহাস নয়—পরবর্তী সময়ে গণনা ও সংখ্যাবিজ্ঞানের বিকাশে এগুলির গুরুত্ব রয়েছে। একইভাবে যজ্ঞবেদি নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত জ্যামিতিক ধারণা ও মাপজোকের মাধ্যমে প্রাচীন স্থাপত্য ও গণিতচর্চার একটি দিক তুলে ধরা হবে।

আয়ুর্বেদকে কেন্দ্র করে প্রদর্শনীর অংশে প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসা-জ্ঞান, ভেষজ সম্পর্কে ধারণা এবং শরীর ও রোগ সম্পর্কে তৎকালীন পর্যবেক্ষণের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হবে। এর পাশাপাশি প্রাচীন জ্যোতির্বিদ্যার ক্ষেত্রে আকাশ পর্যবেক্ষণ, সময় গণনা এবং গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি সম্পর্কে জ্ঞানচর্চার বিষয়ও সামনে আনা হবে।

এই ধারাবাহিকতাই পৌঁছবে আধুনিক বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণার পরিসরে। অর্থাৎ প্রদর্শনীর মূল বক্তব্য হবে—প্রাচীন জ্ঞানচর্চার যে ক্ষেত্রগুলিতে পর্যবেক্ষণ, যুক্তি, গণনা ও প্রয়োগের ভূমিকা ছিল, সেগুলিকে ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বোঝার পর আধুনিক বিজ্ঞানের পদ্ধতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তার পার্থক্য এবং সম্পর্কও দর্শকদের সামনে তুলে ধরা।

আগামী ২১ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞান প্রদর্শনীর উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর মহাকাশ গবেষণা নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। ইসরোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে একটি প্রদর্শনীর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের আদলে মহাকাশবিজ্ঞানভিত্তিক উপস্থাপনার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞানকে আধুনিক বিজ্ঞানের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য নয়। বরং কোনটি ঐতিহাসিক জ্ঞানচর্চা, কোনটি আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং সময়ের সঙ্গে জ্ঞান কীভাবে পরিবর্তিত ও বিকশিত হয়েছে—সেই বিষয়টিই সহজভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরাই লক্ষ্য।

ফলে ‘সনাতন থেকে বিজ্ঞান’ শুধু একটি পুজোর থিম নয়, বরং জ্ঞানচর্চার দীর্ঘ যাত্রাকে দেখানোর একটি প্রয়াস—প্রাচীন পর্যবেক্ষণ ও গণনা থেকে শুরু করে আধুনিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণার বিস্তৃত পরিসর পর্যন্ত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *