তাপস রায়,কলকাতা: সংস্কৃতির জগতে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা শুধু নিজেরা এগিয়ে যান না, অন্যদেরও এগিয়ে নিয়ে চলেন। তেমনই এক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জলি সরকারের উদ্যোগে এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সাতনরী’-র আয়োজনে অনুষ্ঠিত হল ‘কবিগুরু প্রণাম’ অনুষ্ঠান।

গত ১ মে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি শান্তির প্রতীক গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাব তিথির আবহও নানা পরিবেশনায় সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়। কখনও গানে, কখনও কথায়, কখনও আবার নৃত্যে শিল্পীরা তুলে ধরেন মানবতা, শান্তি ও সৌন্দর্যের বার্তা।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন অপর্ণা বণিক, সন্দীপ চট্টোপাধ্যায়, মালা বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়িতা নন্দী মজুমদার, রঞ্জিনী মুখোপাধ্যায়, শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদার, স্বপ্নিল সৈকত, শান্তা দেব, কৃষ্ণকলি বসু নিয়োগী, মৌসুমী গঙ্গোপাধ্যায়, রবীন্দ্রতীর্থ (চন্দননগর)-এর মিতালী বন্দ্যোপাধ্যায়, রুনা সেন ঘোষ, নন্দিনী চট্টোপাধ্যায়, তনুশ্রী ভট্টাচার্য বোস, বিনীতা নাট্য সংস্থার দেবযানী তালুকদার, পুতুল ঘোষ, সূচন্দ্রা চৌধুরী, পাপিয়া পাল, নিবেদিতা নাগ তহবিলদার (আবৃত্তি), দীপান্বিতা সেন (পাঠ), সুস্মিতা সেন শর্মা, ড. কৃষ্ণা দাস, রিনা গিরি (কবিতা), উর্মিলা ভৌমিক (নৃত্য) এবং চন্দ্রা মহলানবীশ প্রমুখ।
এই ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চৈতালি দাশগুপ্ত, ড. উপালি চট্টোপাধ্যায়, বিশিষ্ট অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়, অঞ্জনা বসু, তনিমা সেন এবং চন্দ্রাবলী রুদ্র দত্ত। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করে তোলে।

সাতনরীর সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীদের আন্তরিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয়। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন মৌমিতা চ্যাটার্জী, মহুয়া বোস, মমতা দেবনাথ, মিতালী ঘোষ এবং অরুন্ধতী সেন। হিরন্ময় ভট্টাচার্যের সাবলীল সঞ্চালনা অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করে।

গান, আবৃত্তি, কবিতা, পাঠ ও নৃত্যের সমন্বয়ে ‘কবিগুরু প্রণাম’ হয়ে ওঠে এক মননশীল ও হৃদয়স্পর্শী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, যা উপস্থিত দর্শকদের মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
