কলকাতা, ১৫ জুলাই: বিশ্ব প্লাস্টিক সার্জারি দিবস উপলক্ষে লিম্ফেডিমা প্রতিরোধ, উন্নত চিকিৎসা এবং পুনর্গঠনমূলক প্লাস্টিক সার্জারির গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশেষ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করল মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস। অনুষ্ঠানে এমন দুই রোগীকে সংবর্ধনা জানানো হয়, যাঁরা উন্নত প্লাস্টিক ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারির মাধ্যমে জটিল শারীরিক সমস্যা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। চিকিৎসার নেতৃত্বে ছিলেন হাসপাতালের প্লাস্টিক ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি বিভাগের প্রধান ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সিনজিনি দাস এবং অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. শুভম কেজরিওয়াল। উপস্থিত ছিলেন মণিপাল অনকোলজি সার্ভিসেস-এর ডিরেক্টর ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সৌরভ দত্ত এবং গাইনোকোলজিক অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. অরুণাভ রায়।

অনুষ্ঠানে চিকিৎসকেরা জানান, প্লাস্টিক ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নয়, বরং শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গের কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনা, চলাফেরার সক্ষমতা বাড়ানো এবং রোগীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় লিম্ফেডিমা সম্পর্কে সচেতনতার ওপর। ক্যানসারের অস্ত্রোপচার বা রেডিয়েশনের পর অনেক রোগীর শরীরে লিম্ফ তরল জমে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা সময়মতো চিকিৎসা না হলে দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তোলে।

অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন ৬৭ বছরের ছবি রানি ঘোষ। গাইনোকোলজিক ক্যানসারের চিকিৎসার সময় প্রতিরোধমূলক উন্নত মাইক্রোসার্জারির ফলে তাঁর লিম্ফেডিমা হওয়ার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি সংবর্ধিত হন ৫৮ বছরের সুমিতা ভট্টাচার্য, যিনি দীর্ঘদিনের গ্রেড-৩ লিম্ফেডিমায় ভুগছিলেন। উন্নত সুপারমাইক্রোসার্জারির মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর পায়ের ফোলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।

ডা. সিনজিনি দাস বলেন, বর্তমানে লিম্ফ্যাটিকোভেনাস অ্যানাস্টোমোসিস (LVA) এবং ভাসকুলারাইজড লিম্ফ নোড ট্রান্সফার (VLNT)-এর মতো আধুনিক মাইক্রোসার্জারির মাধ্যমে লিম্ফেডিমার চিকিৎসায় অত্যন্ত ইতিবাচক ফল মিলছে। সময়মতো রোগ নির্ণয়, দ্রুত চিকিৎসা শুরু এবং একাধিক বিশেষজ্ঞের সমন্বিত চিকিৎসাই রোগীদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে কার্যকর।

বিশ্ব প্লাস্টিক সার্জারি দিবসে মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস পুনরায় জানায়, উন্নত রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি, লিম্ফেডিমা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রসার এবং এই ক্ষেত্রে গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
