IMG 20260724

থ্রো বলে বাংলার দুই উজ্জ্বল মুখ আগ্নেয়ি ও পামেলা

এশিয়ার মঞ্চে বাংলার গর্ব, জাতীয় থ্রোবল আয়োজনের দায়িত্বও পেল রাজ্য

তাপস রায়,কলকাতা: ভারতীয় থ্রোবল দলের হয়ে দ্বিতীয় সাউথ এশিয়ান থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্য অর্জন করে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন দুই মহিলা খেলোয়াড় আগ্নেয়ী বিশ্বাস ও পামেলা কুন্ডু। ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারত পুরুষ ও মহিলা—উভয় বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এই অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বেঙ্গল থ্রোবল অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে স্পোর্টস জার্নালিস্ট ক্লাব, ময়দানে দুই কৃতী খেলোয়াড়কে সংবর্ধনা জানানো হয়।

এই অনুষ্ঠানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। থ্রোবল ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া ৩৪তম জাতীয় সাব-জুনিয়র থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের দায়িত্ব বেঙ্গল থ্রোবল অ্যাসোসিয়েশনকে অর্পণ করেছে। আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত কলকাতার সরসুনা হাই স্কুল ও সরসুনা গার্লস হাই স্কুলে এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। দেশের প্রায় সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে অংশগ্রহণকারী দলগুলি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। দীর্ঘ ৩১ বছর পর পশ্চিমবঙ্গ আবার জাতীয় স্তরের এই বৃহৎ প্রতিযোগিতার আয়োজক হতে চলেছে, যা রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বেঙ্গল থ্রোবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রতিযোগিতাকে সফলভাবে আয়োজনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে থ্রোবল খেলার প্রসার ও জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সামনে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার এক বড় সুযোগ তৈরি হবে।

উল্লেখ্য, থ্রোবল একটি স্পর্শবিহীন দলগত বলের খেলা, যেখানে সাতজনের দুটি দল জালের দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে বল আদান-প্রদানের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা করে। ১৯৪০-এর দশকে ভারতে এই খেলার সূচনা হয় এবং পরবর্তীকালে এটি জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ১৯৮৫ সালে থ্রোবল ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮৯ সালে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রকের স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৮৮ সালে বেঙ্গল থ্রোবল অ্যাসোসিয়েশন জাতীয় সংস্থার অনুমোদন লাভ করে এবং ১৯৯৫ সালে পশ্চিমবঙ্গে সফলভাবে সিনিয়র ন্যাশনাল থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের নজির গড়ে। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবার ৩৪তম জাতীয় সাব-জুনিয়র থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের দায়িত্বও বাংলার কাঁধে এসেছে, যা রাজ্যের থ্রোবল আন্দোলনের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *