কলকাতা, ২৭ জুলাই: “প্রতিরোধ সম্ভব, চিকিৎসা সম্ভব, সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়াও সম্ভব”— এই বার্তাকেই সামনে রেখে বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ সচেতনতা সম্মেলনের আয়োজন করল মণিপাল হসপিটালস কলকাতা। অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, সময়মতো হেপাটাইটিস শনাক্ত করা গেলে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের মতো মারাত্মক জটিলতা অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ৪ কোটি মানুষ দীর্ঘদিন ধরে হেপাটাইটিস বি এবং ৬০ থেকে ১২০ লক্ষ মানুষ হেপাটাইটিস সি-তে আক্রান্ত। উদ্বেগের বিষয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে কোনও লক্ষণ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে। ফলে লিভারের গুরুতর ক্ষতি না হওয়া পর্যন্ত অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে তাঁরা আক্রান্ত।
মণিপাল হসপিটাল ব্রডওয়ে, ইএম বাইপাস, মুকুন্দপুর, ঢাকুরিয়া ও সল্টলেকের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও লিভার বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রোগ প্রতিরোধ, টিকাকরণ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে উঠে আসে, হেপাটাইটিস এমন একটি রোগ যা সঠিক সময়ে ধরা পড়লে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা করা যায়। টিকাকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই এই রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়। একইসঙ্গে তাঁরা জানান, লিভারের অনেক রোগই দীর্ঘদিন নীরবে শরীরে বাড়তে থাকে। তাই হজমের সমস্যা, দীর্ঘদিনের লিভার-সংক্রান্ত অসুবিধা বা ঝুঁকির কারণ থাকলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অনুষ্ঠানে লিভারের স্বাস্থ্য নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চিকিৎসকরা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, আধুনিক এন্ডোস্কোপিক চিকিৎসা, কম কাটাছেঁড়ার পদ্ধতি এবং জটিল লিভার রোগের চিকিৎসায় সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। রোগীরাও তাঁদের চিকিৎসা-পরবর্তী সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।
মণিপাল হসপিটালস কলকাতা জানিয়েছে, এই ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে পূর্ব ভারতের মানুষের মধ্যে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং লিভার ও পরিপাকতন্ত্রের উন্নত চিকিৎসা আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।

