শিশুদের মানসিক সুরক্ষায় স্কুলের ভূমিকা, সেন্ট অগাস্টিন ডে স্কুলে তিন দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা
তাপস রায়,কলকাতা, ২৭ জুলাই: ছাত্রজীবন ও বয়ঃসন্ধি মানুষের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এই সময়ে যেমন শারীরিক বিকাশ ঘটে, তেমনই মানসিক বিকাশও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আর দিনের বড় একটি সময় যেহেতু শিক্ষার্থীদের স্কুলে কাটে, তাই শিশু ও কিশোরদের মানসিক সুস্থতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি শিক্ষক-শিক্ষিকা ও স্কুল প্রশাসনের ভূমিকাও অপরিহার্য। সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দ্বারা নিম্ন শ্রেণির পড়ুয়াদের নিগ্রহের কয়েকটি ঘটনার প্রেক্ষিতে এই বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ২৭ থেকে ২৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত হায়দ্রাবাদের আজিম প্রেমজি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং সেন্ট অগাস্টিন ডে স্কুলের উদ্যোগে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোডের স্কুল ক্যাম্পাসের সি. আর. গ্যাসপার মেমোরিয়াল হলে শিক্ষক, শিক্ষিকা ও স্কুল কাউন্সিলারদের নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিষয়ক তিন দিনের আলোচনা সভা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন সেন্ট অগাস্টিন ডে স্কুলের প্রিন্সিপাল ডা. রিচার্ড গ্যাসপার এবং আজিম প্রেমজি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি, দেশের বিশিষ্ট শিশু ও কিশোর মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শেখর শেষাদ্রি এবং ডা. শীলা রামস্বামী।

এই উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ডা. শেখর শেষাদ্রি জানান, কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীদের মানসিক চাহিদা সম্পর্কে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সচেতন করে তোলা এবং শিশু ও কিশোরদের সুস্থ মানসিক বিকাশের উপযোগী একটি নিরাপদ ও সহানুভূতিশীল স্কুল পরিবেশ গড়ে তোলার পথ খুঁজে বের করা।

প্রখ্যাত শিশু মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শীলা রামস্বামী বলেন, প্রতিটি শিশুর মানসিক সুস্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। শিক্ষার্থীরা দিনের অধিকাংশ সময় স্কুলে কাটায়, তাই শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী এবং স্কুল কাউন্সিলারদের এই বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সেন্ট অগাস্টিন ডে স্কুলের প্রিন্সিপাল ডা. রিচার্ড গ্যাসপার বলেন, তিন দিনের এই কর্মশালায় শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও স্কুল কাউন্সিলাররা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, আলোচনা এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ তাঁদের ভবিষ্যতে আরও সংবেদনশীল ও কার্যকরভাবে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।সাংবাদিক সম্মেলনে স্কুলের প্রেসিডেন্ট এডনা গ্যাসপার এবং কোষাধ্যক্ষ শ্রীমতী এস্থার গ্যাসপারও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা শিশুদের নিরাপদ, ইতিবাচক ও মানসিকভাবে সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন।

