ভালোবাসা কি বিশেষ চাহিদার মানুষের অধিকার নয়?
তাপস রায়,কলকাতা প্রেস ক্লাব, ৭ আগস্ট: ভালোবাসা, সম্পর্ক, বিয়ে, পরিবার—এই স্বপ্নগুলো কি শুধু তথাকথিত ‘স্বাভাবিক’ মানুষের জন্য? বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের ভালোবাসা ও অনুভূতির অধিকারকে সামনে রেখে এমনই কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে আসন্ন বাংলা স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি ‘একটি অন্য প্রেমের গল্প’ (Ekti Onnyo Premer Golpo)। অর্টিজিম ও ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত মানুষের আবেগ, স্বপ্ন, সম্পর্ক এবং সমাজে মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকারকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ছবিটি।

পরিমল ভট্টাচার্যের প্রযোজনায় ছবিটির গল্প ও পরিচালনায় সৌমেন ডি, তাপস ব্যানার্জি। সহ-পরিচালক ও চিত্রগ্রাহক তাপস ব্যানার্জি এবং সম্পাদনায় সায়াহ্ন ডি। ছবিতে অভিনয় করেছেন পরিমল ভট্টাচার্য, মন্তু ভট্টাচার্য, আমন এবং আমিকা ভট্টাচার্য।

ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ আমিকা ভট্টাচার্য, যিনি নিজেও ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত। তাঁর স্বাভাবিক অভিনয়, আবেগপ্রকাশ ও চরিত্রের প্রতি গভীর আন্তরিকতা ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে। ছবির পুরুষ চরিত্রে রয়েছেন আমন, যিনি এর আগে নেটফ্লিক্সের ‘খাকী’ এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘পায়েশ’-এ অভিনয় করেছেন।

গত ৭ই আগস্ট কলকাতা প্রেস ক্লাবে ছবিটির টিজার প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অতিথিরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্যারানরমাল গবেষক ড. উজ্বল গুপ্ত, শিশু ও নারী সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ ড. সোমা ঘোষ, ফ্যাশন ডিজাইনার শান্তনু গুহ ঠাকুরতা, মডেল ওপেন, অভিনেত্রী আয়ুশ্রী পাল, অভিনেতা আমন, ড. সুনীতা রায়, সল্টলেক উত্তরণ-এর প্রতিষ্ঠাতা জয়িতা রায়, প্রিন্সিপাল শম্পা দে শ্রীনিবাসন এবং বিশেষ শিক্ষাবিদ কৌশিক পাল। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শ্রাবণী বসু।

ছবির নির্মাতাদের মতে, ‘একটি অন্য প্রেমের গল্প’ শুধুমাত্র প্রেমের গল্প নয়; এটি সমাজের প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের প্রতি করুণা নয়, তাঁদের প্রয়োজন ভালোবাসা, সম্মান, সমান সুযোগ এবং নিজের মতো করে জীবন বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা—এই বার্তাই তুলে ধরতে চায় ছবিটি। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলিতে ছবিটি পাঠানোর প্রস্তুতিও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সব শেষে বলা যেতে একের পর এক এই ধরনের বাস্তব চিত্র নির্মাণ করে সামাজিক অনেক জড়তাকে লোক সমক্ষে আনছেন পরিচালক সৌমেন দাস।শুধু তাই নয় পরিমল ভট্টাচার্য্য দের মত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ছেলে মেয়েদের অভিভাবকদের এগিয়ে দিয়ে নিজের কার্যত নিজেই এগিয়ে রয়েছেন সৌমেন বাবুরা।

