পুণ্যার্থীর সেবায় এক মাসের চিকিৎসা শিবির
তারকেশ্বর, ২০ আগস্ট: ‘পুণ্যার্থীদের সেবাই ঈশ্বরের সেবা’—এই ভাবনাকে সামনে রেখে শ্রাবণ মাসজুড়ে তারকেশ্বর স্টেশন চত্বরে পরিচালিত হল ২৪ ঘণ্টার বিনামূল্যের প্রাথমিক চিকিৎসা শিবির। এক মাস ধরে চলা এই উদ্যোগে দূর-দূরান্ত থেকে বাবা তারকনাথের মন্দিরে আসা হাজার হাজার পুণ্যার্থী স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসার পরিষেবা পান।

সমাজসেবী পিনাকী গাঙ্গুলীর উদ্যোগ ও ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করতে বামুনিয়া সন্ন্যাস আশ্রমের (গোঘাট) প্রধান স্বামী জ্ঞানানন্দ মহারাজ, তারকেশ্বর মন্দির কমিটি এবং সমাজসেবী গণেশ চক্রবর্তী যৌথভাবে এই শিবিরের আয়োজন করেন। কলকাতা হার্ট লাং সেন্টারের অধিকর্তা ও বিশিষ্ট সিনিয়র কার্ডিয়াক সার্জন ডাঃ অর্ণব মাইতির সহযোগিতায় দক্ষ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি দল দিন-রাত পরিষেবা প্রদান করে।

বৃহস্পতিবার শিবিরের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বামী জ্ঞানানন্দ মহারাজ, ডাঃ অর্ণব মাইতি, গণেশ চক্রবর্তী, দার্জিলিং রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী অক্ষয়ানন্দ পুরী মহারাজ, আরপিএফ আধিকারিক আর কে গুপ্তা-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে ডাঃ অর্ণব মাইতি বলেন, মানবসেবাই পরমেশ্বরের আরাধনা। সেই আদর্শকে সামনে রেখেই শিবভক্তদের জন্য ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, এই উদ্যোগ শুধুমাত্র চিকিৎসা পরিষেবা নয়, ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি, আনুগত্য ও কর্তব্য পালনেরও এক মাধ্যম।

সমাজসেবী গণেশ চক্রবর্তী জানান, বাবা তারকনাথের কৃপায় আগামী বছর আরও বৃহৎ ও সুসংগঠিতভাবে এই পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। স্বামী জ্ঞানানন্দ মহারাজ বলেন, এক মাসের এই নিঃস্বার্থ সেবা তাঁদের সারা বছর হুগলি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক কাজ করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

সমাজসেবী পিনাকী গাঙ্গুলীর মতে, প্রশংসার মোহ ত্যাগ করে মানুষের জন্য কাজ করাই ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ আরাধনা। আগামী দিনেও আরও বৃহত্তর পরিসরে সেবামূলক কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। শিবির সফল করতে বামুনিয়া আশ্রম, মন্দির কমিটি এবং আরপিএফের আধিকারিক ও সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ডাঃ অর্ণব মাইতি। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন তারকেশ্বর মন্দিরের পক্ষে রঞ্জন চোঙদার।
