তাপস রায়, মহেশতলা: গুরু-শিষ্য পরম্পরার চিরন্তন ঐতিহ্য, শ্রদ্ধা ও সাধনার আবহে মহেশতলা নৃত্যতীর্থের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল দিনভর ‘গুরু নমণ’ নৃত্য মহোৎসব ২০২৬। গত ২ আগস্ট মহেশতলার বাটা স্পোর্টস ক্লাব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই উৎসবের রূপকার ছিলেন নৃত্যতীর্থের কর্ণধার ও নৃত্যগুরু শ্রীমতি সোমা সেবক। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংস্কৃতির অন্যতম ভিত্তি গুরু-শিষ্য পরম্পরাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিশেষ আয়োজন।

সরস্বতী স্তোত্রের মঙ্গলাচরণে উৎসবের সূচনা। একে একে মঞ্চে ধরা পড়ে ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের নানা রূপ ও সৌন্দর্য। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দুস্তান আর্ট ও মিউজিক সোসাইটির কর্ণধার গুরু পণ্ডিত প্রসেনজিৎ পোদ্দার, নৃত্যগুরু প্রদীপ্ত নিয়োগী, অনুরাধা নিয়োগী, পলি গুহ, লাইলি বসু, সুস্মিতা নন্দী, নাট্যব্যক্তিত্ব রাজা গুপ্ত এবং মাইম শিল্পী কমল নস্কর। ওয়েস্ট বেঙ্গল ড্যান্স গ্রুপ ফেডারেশনের পক্ষ থেকে চন্দ্রদয় ঘোষ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে উৎসবের সাফল্য কামনা করেন।

‘গুরু নমণ’-এর মঞ্চে মিলেছিল দেশ-বিদেশের শিল্পীদের সুর ও ছন্দ। বাংলাদেশ ছাড়াও আমেরিকা থেকে রিয়া সেনগুপ্তের ওড়িশি নৃত্য দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। পাশাপাশি মুম্বই, দিল্লি, কুনুর, বেঙ্গালুরু, পুনে ও ভুবনেশ্বর থেকেও শিল্পীরা অংশ নেন। নৃত্যগুরু সোমা সেবকের পরিচালনায় তাঁর ছাত্রছাত্রীরা ত্রিতাল, ঝাঁপতাল ও ধামারের তালে শাস্ত্রীয় নৃত্য পরিবেশন করে মঞ্চকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পণ্ডিত প্রসেনজিৎ পোদ্দারের তবলা সঙ্গতে রিদিম পোদ্দারের সঙ্গে সোমা সেবকের একক কত্থক পরিবেশনা। নৃত্য, সঙ্গীত ও গুরুশ্রদ্ধার এই মেলবন্ধন দর্শকদের মনে তৈরি করে এক অনন্য আবেশ।

তানিয়া চ্যাটার্জীর সাবলীল সঞ্চালনা এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতায় ‘গুরু নমণ’ হয়ে ওঠে শুধুমাত্র একটি নৃত্যোৎসব নয়, বরং গুরু-শিষ্য সম্পর্কের প্রতি এক নিবেদিত শ্রদ্ধার্ঘ্য। নৃত্যের ছন্দে, সঙ্গীতের সুরে এবং শিল্পীদের সাধনায় দিনভর এই উৎসব স্মরণীয় হয়ে রইল।এই সংস্করণে প্রতিবেদনটিকে আরও সাংস্কৃতিক সংবাদপত্রের ফিচারধর্মী স্বাদ দেওয়া হয়েছে, যাতে পড়লে সাধারণ প্রেস রিলিজের মতো না লাগে।

