হৃদ্স্বাস্থ্যে সচেতনতার বার্তা, মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ায় কার্ডিয়াক সামিট
কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বর: হৃদ্রোগের উপসর্গ অনেক সময় অবহেলিত হওয়ায় চিকিৎসা শুরুতে দেরি হয়। এই বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিশ্ব হৃদ্দিবসের প্রাক্কালে মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল ‘হার্ট অব ইনোভেশন কার্ডিয়াক সামিট’। অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, হৃদ্রোগ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।

২০২৬ সালের বিশ্ব হৃদ্দিবসের বার্তা ‘ডোন্ট মিস আ বিট’-কে সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনে হৃদ্রোগের সতর্কতামূলক লক্ষণ চিহ্নিত করা, সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া এবং হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়া বা হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য সিপিআর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ার কনসালট্যান্ট–জরুরি চিকিৎসা বিভাগের ডাঃ অশোক মিশ্র। এরপর ‘হার্ট অ্যাটাক ধীরে ধীরে হার্ট ফেলিওরে পরিণত হওয়া কি এক মহামারির রূপ নিচ্ছে?’ বিষয়ের উপর প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নেন ডাঃ প্রকাশ কুমার হাজরা, ডাঃ সুমন্ত চট্টোপাধ্যায়, ডাঃ সুপ্রতীপ কুণ্ডু, ডাঃ সৌম্য কান্তি দত্ত, ডাঃ প্রদীপ ভৌমিক এবং ডাঃ কৌশিক মুখার্জি। হৃদ্রোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন ভুল ধারণা দূর করতে ছিল বিশেষ প্রশ্নোত্তর পর্বও।

ডাঃ প্রকাশ কুমার হাজরা জানান, ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজির উন্নতির ফলে জটিল হৃদ্রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি রোগের উপসর্গ দ্রুত চিহ্নিত করে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, হৃদ্যন্ত্রে স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আগেই চিকিৎসা শুরু করা গেলে পরবর্তী জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
ডাঃ কৌশিক মুখার্জি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে উপযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম আক্রমণাত্মক পদ্ধতিতে জটিল হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে রোগীর দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ বাড়ছে।
হাসপাতালের ডিরেক্টর শ্রী দিলীপ কুমার রায় বলেন, এই সামিটে রোগীদের অভিজ্ঞতাকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। চিকিৎসার পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা রোগীদের উপস্থিতি প্রমাণ করে, উন্নত হৃদ্রোগ চিকিৎসার অন্যতম লক্ষ্য হল রোগীকে তাঁর স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেওয়া। একইসঙ্গে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

সম্মেলনে নিজের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ৩২ বছরের ডোমান সোনকার। ফ্যামিলিয়াল হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়ার মতো জটিল জিনগত সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ কোলেস্টেরলের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। একাধিকবার বুকে ব্যথার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং একাধিক অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির পর তাঁর হৃদ্যন্ত্রে একাধিক স্টেন্ট বসানো হয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসা সত্ত্বেও বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারার জন্য চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা রাজেশ শর্মা এবং মডেল ও অভিনেতা দীপাঞ্জন বসাক। রাজেশ শর্মা বলেন, শরীরের সতর্কতামূলক সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। দীপাঞ্জন বসাকের কথায়, হৃদ্স্বাস্থ্য শুধু চিকিৎসার বিষয় নয়, বরং সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ায় ২৪ ঘণ্টার জরুরি পরিষেবার পাশাপাশি অত্যাধুনিক ক্যাথ ল্যাব, উন্নত অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি, TAVI/TAVR, লিডলেস পেসমেকার, বিভিন্ন ধরনের অ্যাব্লেশন, মিনিমালি ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি, করোনারি আর্টারি বাইপাস সার্জারি এবং জন্মগত হৃদ্যন্ত্রের ত্রুটি সংশোধনের মতো একাধিক চিকিৎসা পরিষেবা রয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।সম্মেলনের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, হার্ট অ্যাটাক বা হৃদ্রোগের গুরুতর ঘটনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠাই চিকিৎসার শেষ নয়। দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত পরিচর্যা, ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

