কলকাতা: ভালো সামাজিক বাংলা ছবির প্রত্যাশা পূরণ করেছে বলাকা ফিল্মের নতুন ছবি ‘ধীমান ফিরে এসো’। ১৭ই সেপ্টেম্বর থেকে পদ্মশ্রী সিনেমা হলে ছবিটি দেখতে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সামাজিক বার্তা, আবেগ, হাস্যরস এবং পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ছবিটি দর্শকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে।
প্রয়াত পঙ্কজ দাসের কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত এই ছবিতে একাধিক পরিচিত শিল্পীর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন নতুন মুখকেও দেখা গিয়েছে। গল্প বলার ধরন, চরিত্রের বিন্যাস এবং সম্পর্কের সূক্ষ্ম দিকগুলিকে পর্দায় তুলে ধরার ক্ষেত্রে পরিচালকের মুন্সিয়ানা ছবিটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক।ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র ধীমানের ভূমিকায় প্রবীর ঘোষ তাঁর অভিজ্ঞ অভিনয়ের পরিচয় দিয়েছেন। কখনও হাস্যরস, কখনও মজার মুহূর্ত, আবার কখনও আবেগঘন পরিস্থিতি—বিভিন্ন পর্বে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মন ছুঁয়েছে।তবে ছবির অন্যতম উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ বিশ্বজিৎ চৌধুরীর অভিনয়। দাদার চরিত্রে তাঁর স্বাভাবিক, সংযত এবং সাবলীল অভিনয় ছবির পারিবারিক আবহকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। চরিত্রটির মধ্যে একদিকে যেমন স্নেহ ও দায়িত্ববোধ রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে সম্পর্কের টানাপোড়েন—বিশ্বজিৎ চৌধুরী সেই দুই দিকই স্বচ্ছন্দ অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।বাংলা ছবিতে দাদার চরিত্র একটি দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ অভিনয়-ঐতিহ্যের অংশ। দীপঙ্কর দে, রঞ্জিত মল্লিকের মতো বর্ষীয়ান অভিনেতারা বিভিন্ন ছবিতে দাদার ভূমিকাকে কখনও অভিভাবকসুলভ, কখনও বন্ধুত্বপূর্ণ, আবার কখনও সম্পর্কের সংকটের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দর্শকদের কাছে স্মরণীয় করে তুলেছেন। সেই অভিনয়-ঐতিহ্যের উত্তরসূরি হিসেবে বিশ্বজিৎ চৌধুরীর মতো অভিনেতাদের উপস্থিতি বাংলা ছবিতে এই ধরনের চরিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করছে। ‘ধীমান ফিরে এসো’-তেও তাঁর অভিনয় সেই ধারারই একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।শুধু দাদার চরিত্রেই নয়, বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতার পরিচয় আগেও দিয়েছেন বিশ্বজিৎ চৌধুরী। এই ছবিতেও চরিত্রটির আবেগকে অতিরঞ্জিত না করে স্বাভাবিক অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি। ফলে ছবির পারিবারিক সম্পর্কের আবহে তাঁর চরিত্রটি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।ছবির নায়িকা দোলা চরিত্রে তৃষা চক্রবর্তীর আত্মপ্রকাশ। নতুন মুখ হলেও তাঁর অভিনয়ের সাবলীলতা দেখে তাঁকে একেবারে নবাগত বলে মনে হয় না। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর নৃত্যও ছবির অন্যতম আকর্ষণ।অঞ্জন চরিত্রে জয়ন্তও যথেষ্ট ভালো অভিনয় করেছেন। নতুন অভিনেতা হিসেবে তাঁর মধ্যে সম্ভাবনার ইঙ্গিত রয়েছে। আগামী দিনে আরও কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে পরিণত করার সুযোগ তাঁর সামনে রয়েছে।দোলার বাবার চরিত্রে শম্ভু দাসের অভিনয়ও প্রশংসনীয়। চরিত্রটির আবেগ, অভিজ্ঞতা এবং পারিবারিক অনুভূতিকে তিনি স্বাভাবিক অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।ছবিতে অতিথি শিল্পী হিসেবে রয়েছেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী দেবিকা মুখার্জী। ‘মিনতি’ চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি ছবির আকর্ষণ আরও বাড়িয়েছে।সব মিলিয়ে সামাজিক গল্প, পারিবারিক সম্পর্ক, অভিজ্ঞ শিল্পীদের অভিনয় এবং নতুন মুখের উপস্থিতির সমন্বয়ে ‘ধীমান ফিরে এসো’ বাংলা ছবির দর্শকদের জন্য একটি উপভোগ্য প্রয়াস। আর বিশ্বজিৎ চৌধুরীর সাবলীল দাদার চরিত্রটি ছবির আবেগ ও পারিবারিক সম্পর্কের বুননকে আরও দৃঢ় করেছে। পদ্মশ্রী সিনেমা হলে দর্শকদের উপস্থিতি এবং তাঁদের প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করেছে সামাজিক সম্পর্ক ও মানবিক আবেগকে কেন্দ্র করে নির্মিত বাংলা ছবির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ এখনও যথেষ্ট প্রবল।
