তাপস রায়,কলকাতা: সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে গুণমানসম্পন্ন জেনেরিক ওষুধ পৌঁছে দেওয়া এবং জনঔষধি কেন্দ্র সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চিকিৎসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হল কলকাতায় অনুষ্ঠিত জনঔষধি কেন্দ্র ওনার্স ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (JKOWS)-এর দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলনে। ১ নভেম্বর কলকাতার রোটারি সদনে আয়োজিত এই সম্মেলনে স্বাস্থ্য পরিষেবা, চিকিৎসা জগৎ, ওষুধ শিল্প এবং জনঔষধি কেন্দ্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল জনঔষধি কেন্দ্র এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলা। এই প্রসঙ্গে চিকিৎসকদের বিশেষ উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান শর্বরী দত্ত। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, জনঔষধি প্রকল্পের সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চিকিৎসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা থাকলে সাধারণ মানুষ জেনেরিক ওষুধ সম্পর্কে আরও বেশি আস্থাশীল হবেন এবং সাশ্রয়ী চিকিৎসার সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।
সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি পরিযোজনার গুরুত্ব তুলে ধরা, জেনেরিক ওষুধের ব্যবহার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দেশজুড়ে জনঔষধি কেন্দ্রগুলির পরিচালন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও সুসংহত করা। ক্রমবর্ধমান চিকিৎসার ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের কাছে কম খরচে গুণমানসম্পন্ন ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য রাখেন ইন্টারন্যাশনাল পেশেন্টস ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০২৬ সালের হেলথকেয়ার আইকন ড. রাজেন্দ্র প্রতাপ গুপ্ত। তিনি ভারতের জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি ২০১৭ প্রণয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। জনঔষধি কেন্দ্রগুলির পরিচালন ব্যবস্থার উন্নতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও অর্থ বিভাগের ডিরেক্টর শ্রীকুমার ঘোষ চৌধুরী, বিশিষ্ট চিকিৎসক ড. নারায়ণ ব্যানার্জি, ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় শাখার অনারারি সেক্রেটারি জেনারেল ডাঃ শর্বরী দত্ত এবং আইএমএ অ্যাকাডেমি অফ মেডিক্যাল স্পেশালিটিজের কলকাতা শাখার চেয়ারম্যান ড. প্রদীপ কুমার নেমানি। এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট সরকারি ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নেন।
আয়োজকদের মতে, জনঔষধি প্রকল্পের সাফল্য শুধু কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, কেন্দ্রের পরিচালক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি। সেই লক্ষ্যেই এই সম্মেলনে পরিষেবার মানোন্নয়ন, ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা, কেন্দ্র পরিচালনার আধুনিকীকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়।

জনঔষধি কেন্দ্র পরিচালকদের স্বার্থরক্ষা, তাঁদের কল্যাণ এবং সারা দেশে এই প্রকল্পের পরিষেবাকে আরও সুসংহত করার উদ্দেশ্যে কাজ করছে JKOWS। সংগঠনের দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলন সেই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সাশ্রয়ী স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসারে বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠছে।