তাপস রায়,কলকাতা, ৪ নভেম্বর, পশ্চিমবঙ্গে যোগ ও ন্যাচারোপ্যাথি শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অচলাবস্থা নিরসনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হল রাজ্যের ২৮টি অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ফাউন্ডেশন অব যোগ অ্যান্ড ন্যাচারোপ্যাথি ইনস্টিটিউট’ (West Bengal Foundation of Yoga and Naturopathy Institute)।

বুধবার দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাট সংলগ্ন ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রাঙ্গণে এক বিজয়া সম্মিলনী ও প্রতিনিধিদের সভার মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলির অধ্যক্ষ, সম্পাদক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে সভাটি একটি ঐক্যবদ্ধ সাংগঠনিক মঞ্চের রূপ নেয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ যোগ ও ন্যাচারোপ্যাথি কাউন্সিলের অধীনে রাজ্যে ২৮টি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে প্রতি বছর এক বছর মেয়াদি RYT (Registered Yoga Trainer) প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে যোগ প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হন।
কিন্তু বর্তমানে কাউন্সিলের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক অচলাবস্থার কারণে এই শিক্ষা ব্যবস্থায় গভীর সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ সংগঠনের। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর কাউন্সিলের কার্যকর গভর্নিং বডি না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্বাভাবিক প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত কাজকর্ম কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে।

এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির উপর। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের RYT পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা এখনও নেওয়া হয়নি। ফলে তাঁদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়াও এখনও শুরু করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে শিক্ষার সুযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাভাবিক কাজকর্মও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সংগঠনের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার ঘোষ এবং সম্পাদক দেবাশিস মণ্ডল এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার উভয়েই বর্তমানে যোগচর্চা, প্রাকৃতিক চিকিৎসা এবং বিকল্প স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। অথচ পশ্চিমবঙ্গে যোগ ও ন্যাচারোপ্যাথি শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক সংস্থার দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর ফলে বহু শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান এবং রাজ্যে যোগশিক্ষার ধারাবাহিকতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, কাউন্সিলের প্রশাসনিক অচলাবস্থা অবিলম্বে দূর করে দ্রুত কার্যকর গভর্নিং বডি গঠন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্থগিত RYT পরীক্ষা অবিলম্বে গ্রহণ ও সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে। তৃতীয়ত, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর নির্দেশ দিতে হবে। চতুর্থত, অনুমোদিত ২৮টি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষাগত ও প্রশাসনিক কাজকর্ম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগ কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়। বরং রাজ্যে যোগ ও ন্যাচারোপ্যাথি শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখা, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যেই এই ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ।
রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তর দ্রুত বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে ইতিবাচক পদক্ষেপ করবে এবং যোগ ও ন্যাচারোপ্যাথি শিক্ষাব্যবস্থায় স্বাভাবিক গতি ফিরবে, এমনটাই আশা সংগঠনের নেতৃত্বের।