Saturday, 24 October 2026
Latest
● দেশভাগের স্মৃতি, শিকড়ের টানে দুর্গাপুজো ● পুজো পরিক্রমায় বাংলার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সম্মানিত করল জেআইএমএসএইচ ● ● নামমাত্র সময়ে সিটি স্ক্যান, 'সুরক্ষা' এবার মুকুন্দপুরে ● সব পক্ষই দেবী পক্ষে, আলিমুদ্দিনের চণ্ডীপাঠে! ● From mindfulness to dance, Loreto College puts mental health in focus ● নাচে-গানে স্বপ্নজয়ের কাহিনি, প্রীতম কে নিয়ে তথ্যচিত্র ‘দ্য ড্যান্সিং মার্শিয়ান’ ● ● সম্মানের আসন মাঝে 'মানসীর রূপকথা ' ● দেবীপক্ষের শুরুতেই ৭৫০ জনকে বস্ত্রদান, মানবিকতার নজির কর্মা ট্রাস্টের ● ● ● দেশভাগের স্মৃতি, শিকড়ের টানে দুর্গাপুজো ● পুজো পরিক্রমায় বাংলার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সম্মানিত করল জেআইএমএসএইচ ● ● নামমাত্র সময়ে সিটি স্ক্যান, 'সুরক্ষা' এবার মুকুন্দপুরে ● সব পক্ষই দেবী পক্ষে, আলিমুদ্দিনের চণ্ডীপাঠে! ● From mindfulness to dance, Loreto College puts mental health in focus ● নাচে-গানে স্বপ্নজয়ের কাহিনি, প্রীতম কে নিয়ে তথ্যচিত্র ‘দ্য ড্যান্সিং মার্শিয়ান’ ● ● সম্মানের আসন মাঝে 'মানসীর রূপকথা ' ● দেবীপক্ষের শুরুতেই ৭৫০ জনকে বস্ত্রদান, মানবিকতার নজির কর্মা ট্রাস্টের ● ●

নীরব সংকেত, অজানা বিপদ—কোলোরেক্টাল ক্যান্সার সচেতনতায় কলকাতার উদ্বেগজনক চিত্র

নীরব সংকেত, অজানা বিপদ—কোলোরেক্টাল ক্যান্সার সচেতনতায় কলকাতার উদ্বেগজনক চিত্র

তাপস রায়,কলকাতা, মার্চ ২০২৬: কোলোরেক্টাল ক্যান্সার সচেতনতা মাস উপলক্ষে প্রকাশিত এক সর্বভারতীয় লাইফস্টাইল ও ডাইজেস্টিভ হেলথ অ্যাওয়ারনেস সার্ভে-তে উঠে এল উদ্বেগজনক তথ্য—কলকাতার মাত্র ৯.৩% মানুষ মলে রক্তপাতকে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের সতর্কবার্তা হিসেবে চেনেন, যা সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শহরগুলির মধ্যে সর্বনিম্ন। দ্রুত বদলে যাওয়া জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিষ্ক্রিয় জীবনধারার প্রভাবে বাড়ছে হজমজনিত সমস্যা, অথচ সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

মার্ক স্পেশালিটিজ প্রাইভেট লিমিটেড-এর সহায়তায় পরিচালিত এই সমীক্ষায় দেশের ১৪টি শহরের ১০,১৯৮ জন অংশ নেন, যার মধ্যে কলকাতার ৪৬৬ জন (২২৮ জন মহিলা ও ২৩৮ জন পুরুষ)। বয়সভিত্তিক অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২৫-৩৫ বছর ৯৬ জন, ৩৬-৪৫ বছর ১৭০ জন, ৪৬-৫৫ বছর ১৩৬ জন এবং ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে ৬৪ জন। সমীক্ষায় দেখা যায়, কলকাতার ৯১.৯% মানুষ অন্ত্রের অভ্যাসে পরিবর্তন হলেও চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন, ৭৫.৭% অনিয়মিত মলত্যাগের সমস্যায় ভোগেন এবং ৪৪.১% তামাক সেবন করেন—যা ক্যান্সারের অন্যতম ঝুঁকির কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোলোরেক্টাল ক্যান্সার সাধারণত কোলন বা রেকটামে ছোট পলিপ থেকে শুরু হয়, যা সময়মতো চিকিৎসা না হলে ক্যান্সারে পরিণত হতে পারে। ফাইবার-কম খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, তামাক সেবন এবং বয়স—এই সবই ঝুঁকি বাড়ায়। উপসর্গ হিসেবে দীর্ঘস্থায়ী মলত্যাগের পরিবর্তন, মলে রক্ত, পেটের অস্বস্তি, ক্লান্তি বা অকারণে ওজন কমে যাওয়া—এই লক্ষণগুলো অবহেলা করা উচিত নয়।

চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, অনেকেই এই উপসর্গগুলোকে হালকাভাবে নিয়ে ঘরোয়া প্রতিকার বা ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধের উপর নির্ভর করেন, যার ফলে রোগ নির্ণয়ে দেরি হয় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসার সুযোগ কমে যায়। অথচ সময়মতো কোলোনোস্কোপির মতো স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এই রোগ সহজেই শনাক্ত ও চিকিৎসা করা সম্ভব।

সমীক্ষাটি আরও দেখায়, ৮০% এরও বেশি মানুষ হজমজনিত সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে নিজেই ওষুধ সেবন করেন এবং ৫০% এর বেশি মানুষ সপ্তাহে অন্তত তিনবার বাইরের বা প্যাকেটজাত খাবার খান। নিয়মিত শরীরচর্চা করেন মাত্র ৪৫.২% মানুষ, যা স্বাস্থ্যঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, তামাক বর্জন এবং সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এই চারটি বিষয় মেনে চললেই কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। কলকাতার প্রেক্ষাপটে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের মানসিকতা গড়ে তোলা এখন অত্যন্ত জরুরি।