তাপস রায়,আজতক:গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে আকাশ মিউজিকের আয়োজনে সূচনা হলো বঙ্গ সংস্কৃতি মেলা ২০২৫। ভারত সেবাশ্রম সংঘের মহারাজের শুভ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই মেলা প্রথম দিন থেকেই সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকদের বিপুল উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে। সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মিলনমেলায় দর্শকদের প্রধান আকর্ষণ ছিল কলাসঙ্গম নৃত্যক্ষেত্র পরিবেশিত বিশেষ নৃত্যানুষ্ঠান। বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ও প্রশিক্ষিকা তানিয়া দেওয়ানজির পরিচালনায় পরিবেশিত এই অনুষ্ঠানে শাস্ত্রীয় ও ভাবনাধর্মী নৃত্যের এক অনন্য মেলবন্ধন লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বিশুদ্ধ ভরতনাট্যমে বিনায়ক কবুত্তম বা গণেশ বন্দনার মাধ্যমে, যার পরেই পরিবেশিত হয় শক্তিশালী ও আবেগঘন শিব তাণ্ডব, যা দর্শকদের গভীরভাবে মুগ্ধ করে। এরপর অচ্যুতম কেশবম কৃষ্ণ বন্দনায় ভক্তি ও নৃত্যশৈলীর সুন্দর সমন্বয় মঞ্চে জীবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের শেষ ও সবচেয়ে ব্যতিক্রমী নিবেদন ছিল সঙ্গীতকার সলিল চৌধুরীর স্মরণে নিবেদিত “জাগো মোহন প্রীতম”, স্বর্গীয়া লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে গাওয়া এই কালজয়ী গানে তানিয়া দেওয়ানজি এক ভিন্নধর্মী নৃত্যনির্মাণ উপস্থাপন করেন, যা অসাধারণ করিওগ্রাফির মাধ্যমে গানটিকে নতুন প্রাণ দেয়। এই নিবেদনের ভাবনায় উঠে আসে এক গভীর প্রশ্ন—আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কী রেখে যাচ্ছি, যা নৃত্যভঙ্গি, আবেগ ও ভাবপ্রকাশের মাধ্যমে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে দর্শকদের কাছে পৌঁছে যায়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিল্পী রোশনি, তানিশা, শারণীকা, সম্পূর্ণা, স্মৃতি, সৃষ্টি, দেবারতি, সারন্যা, অভিকা, সৃজনী, অম্বিকা, প্রান্তিকা ও সম্মৃদ্ধির সম্মিলিত পরিবেশনায় সমগ্র নৃত্যানুষ্ঠানটি দর্শকদের কাছে হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা।
নৃত্যে-সুরে ঐতিহ্যের আলোকরেখা