InShot 20260410

যুদ্ধের ছায়ায় গলছে লোহা, চাপে ভারতের ফাউন্ড্রি শিল্প

তাপস রায়,কলকাতা: ইরান–মার্কিন সংঘাতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবে ভারতের ফাউন্ড্রি ও কাস্টিং শিল্পে তৈরি হয়েছে গভীর চাপ, যার জেরে কাঁচামাল ও পরিবহন খরচে তীব্র ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে শিল্পের শীর্ষ সংগঠনগুলির যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে; ফাউন্ড্রি অ্যান্ড কাস্টিংস ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (এফসিডিএ), ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ান ফাউন্ড্রিমেন (আইআইএফ) এবং ইন্ডিয়ান ফাউন্ড্রি অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ)-এর তথ্য অনুযায়ী গত তিন মাসে পিগ আয়রনের দাম ১৩ শতাংশেরও বেশি বেড়ে স্টিল গ্রেড পিগ আয়রন জানুয়ারিতে প্রতি টন ৩৬,৫০০ টাকা থেকে ১০ এপ্রিল নাগাদ ৪১,৫০০ টাকায় পৌঁছেছে এবং ফাউন্ড্রি গ্রেড পিগ আয়রন ৪০,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫,০০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে; একইসঙ্গে হার্ড কোকের দাম পরিবহন ব্যয় ও যুদ্ধজনিত অতিরিক্ত শুল্কের কারণে প্রতি টনে ২,০০০–৩,০০০ টাকা বেড়েছে, রেজিনের দাম প্রতি কেজি ১০০ টাকা থেকে ১৬০ টাকার বেশি এবং ক্যাটালিস্টের দাম ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকায় পৌঁছেছে; লজিস্টিক ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে রপ্তানির ভাড়া ৫০–৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে এবং সামগ্রিক পরিবহন ব্যয় ৪০–১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পেছনে যুদ্ধঝুঁকি সংক্রান্ত অতিরিক্ত চার্জ, জাহাজ বিমার ৫–১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং লোহিত সাগরের উত্তেজনার কারণে কেপ অফ গুড হোপ ঘুরে বিকল্প পথে পণ্য পরিবহনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে; আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের সতর্ক মনোভাবের ফলে রপ্তানি চাহিদায় কিছুটা মন্থরতা দেখা দিলেও তেল ও গ্যাস, পাম্প ও ভালভ খাত তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে, তবে অটোমোবাইল ও নির্মাণ খাতে কাস্টিং পণ্যে মন্দার ইঙ্গিত মিলছে; এর ফলে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ফাউন্ড্রি সংস্থাগুলি মার্জিন সংকোচন, পণ্য সরবরাহে বিলম্ব এবং কার্যকরী মূলধনের চাপের মতো সমস্যায় জর্জরিত হচ্ছে; এফসিডিএ-র যুগ্ম চেয়ারম্যান জানান পেমেন্ট চক্র দীর্ঘ হওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে, যদিও ভারতের বহুমুখী কাঁচামাল সংগ্রহ ব্যবস্থা ও শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কাঠামো কিছুটা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করছে; সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত শিল্প প্রতিনিধিরা যেমন , , এবং খরচ বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিল্পের টেকসই বৃদ্ধির জন্য কৌশলগত সহায়তার ওপর জোর দেন, পাশাপাশি সংগঠনগুলি উল্লেখ করেছে যে প্রতিযোগিতামূলক খরচ, দক্ষ প্রকৌশল ক্ষমতা ও সুপ্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের কারণে ভারত ক্রমশ একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *