কলকাতা, ৭ এপ্রিল ২০২৬: Apollo Hospitals-এর ‘Health of the Nation 2026’ রিপোর্টে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা—ভারতে বহু সাধারণ রোগ এখন আগেভাগেই দেখা দিচ্ছে, দীর্ঘদিন নিঃশব্দে থেকে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই ধরা পড়ছে না; ২০২৫ সালে তিন মিলিয়নেরও বেশি প্রিভেন্টিভ হেলথ অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে তৈরি এই রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ১৮.৭%, হাইপারটেনশনে ২৮.৯%, অ্যানিমিয়ায় ২৭.৭%, ওভারওয়েট বা স্থূলতায় ৭৮.৪% এবং ডিসলিপিডেমিয়ায় ৫৫.৫% মানুষ আক্রান্ত, একই চিত্র দেখা গিয়েছে কলকাতাতেও যেখানে ৩৫,৭৪৫ জনের মধ্যে প্রায় একই হারে এই ঝুঁকিগুলি ধরা পড়েছে; রিপোর্ট বলছে, কর্মজীবী মানুষের মধ্যে প্রায় অর্ধেকের প্রিডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিস রয়েছে এবং ৮০% ওভারওয়েট, অন্যদিকে ৩০ বছরের নিচে প্রতি ৫ জনে ১ জন প্রিডায়াবেটিক হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করলে ২৮% ক্ষেত্রে তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব, যা ৫০ বছরের পরে কমে ৭%-এ নেমে আসে; ভিটামিন ডি-র ঘাটতি প্রায় ৭০% এবং ভিটামিন বি১২-র ঘাটতি প্রায় অর্ধেক মানুষের মধ্যে দেখা গিয়েছে, পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে শারীরিক সক্ষমতার ঘাটতিও উদ্বেগজনকভাবে বেশি; Dr. Prathap C. Reddy বলেন প্রকৃত স্বাস্থ্যচর্চা এখন ব্যক্তিকেন্দ্রিক, প্রোঅ্যাকটিভ এবং নির্ভুল হওয়া জরুরি, শুধুমাত্র রুটিন পরীক্ষা নয় বরং সমগ্র শরীরকে বুঝে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই ভবিষ্যতের পথ; Dr. Preetha Reddy উল্লেখ করেন নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন অ্যানিমিয়া ও প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যানসারের প্রবণতা বিশেষভাবে গুরুত্ব দাবি করে, যেখানে ৪০ বছরের বেশি মহিলাদের মধ্যে ৩৫৯ জনে ১ জনের ক্ষেত্রে উপসর্গ ছাড়াই স্তন ক্যানসার ধরা পড়েছে এবং ভারতে এর গড় সনাক্তকরণের বয়স পশ্চিমা দেশের তুলনায় প্রায় এক দশক কম; উন্নত ডায়াগনস্টিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে ফ্যাটি লিভারের ৭৪% ক্ষেত্রে লিভার এনজাইম স্বাভাবিক থেকেও রোগ লুকিয়ে থাকতে পারে এবং করোনারি ক্যালসিয়াম স্কোরিংয়ে উপসর্গহীন ৪৫% মানুষের মধ্যে প্রাথমিক অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস ধরা পড়েছে; Dr. Sangita Reddy জানান সঠিক সময়ে সঠিক পরীক্ষা হৃদরোগ ও ক্যানসারকে প্রাথমিক স্তরেই শনাক্ত করতে পারে এবং ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যব্যবস্থা হবে পূর্বাভাসভিত্তিক, ধারাবাহিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক; রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে নিয়মিত ফলো-আপে ৫৬% উচ্চ রক্তচাপ ও ৩৪% ডায়াবেটিস রোগীর উন্নতি হয়েছে, যা প্রমাণ করে শুধুমাত্র রোগ ধরা পড়া নয়, সঠিক পদক্ষেপই সুস্থতার চাবিকাঠি, এবং শক্তিশালী ডেটা, উন্নত প্রযুক্তি ও জীবনযাত্রার বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভারত এখন প্রিভেন্টিভ হেলথকেয়ারের নতুন দিশায় এগোচ্ছে যেখানে লক্ষণ আসার আগেই ঝুঁকিকে চিহ্নিত করাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

Posted inCitylights
