নজরুল বন্দনায় উজ্জ্বল বাণীচক্র
তাপস রায়,কলকাতা: বিদ্রোহ, মানবতা, প্রেম ও সাম্যের চিরন্তন বার্তাবাহক কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করল কুমোরটুলি বাণীচক্র। দক্ষিণ কলকাতার উত্তম মঞ্চে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সুর, ছন্দ, নৃত্য ও আবৃত্তির মেলবন্ধনে স্মরণ করা হয় বাংলা সাহিত্যের এই অনন্য মহীরুহকে।
রবীন্দ্রনাথ থেকে নজরুল—বাংলার সংস্কৃতি ও মননের আকাশে জ্বলজ্বল করা এই সব আলোকবর্তিকাদের স্মৃতি ও সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে আসছে কুমোরটুলি বাণীচক্র। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের নজরুল জয়ন্তী উদযাপন হয়ে ওঠে এক হৃদয়স্পর্শী সাংস্কৃতিক নিবেদন।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের নজরুলগীতি, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের শিক্ষার্থীরা কবির সৃষ্টির নানা রূপ তুলে ধরেন। কখনও সুরে ভেসে ওঠে প্রেম ও ভক্তির আবেগ, কখনও নৃত্যের ছন্দে ধরা পড়ে বিদ্রোহী চেতনার দীপ্তি, আবার আবৃত্তিতে প্রতিফলিত হয় সাম্য ও মানবমুক্তির আহ্বান। উপস্থিত দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন এই বর্ণাঢ্য পরিবেশনা।
সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন ইন্দ্রাণী সেন, দেবযানী রায়চৌধুরী, সুস্মিতা গোস্বামী, দেবাশীষ ব্যানার্জি, সুস্মিতা ভট্টাচার্য, কাকলি পাল, অরূপ মুখার্জী, কমলিকা চ্যাটার্জী, সুতপা বসু, মানসী সাহা ও বিমল নস্কর। নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন নিবেদিতা সরকার, মহাশ্বেতা মজুমদার গুপ্ত, রিনি রায়, ময়ূরী ব্যানার্জি, চন্দনা বসু, সম্পিতা ব্যানার্জি এবং শর্মিষ্ঠা ঘোষ। আবৃত্তি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন মম দে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সংযুক্তা চক্রবর্তী, অদিতি চৌধুরী ও সুলগ্না নাইয়ার একক সঙ্গীত পরিবেশনা। তাঁদের কণ্ঠে নজরুলের অমর সৃষ্টিগুলি নতুন মাত্রা পায় এবং দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।
সন্ধ্যার এই সাংস্কৃতিক আয়োজনে যেন আবারও প্রাণ ফিরে পায় নজরুলের অগ্নিবীণা। সুর, কবিতা ও নৃত্যের সম্মিলিত নিবেদনে বিদ্রোহী কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কুমোরটুলি বাণীচক্র প্রমাণ করে, মহান স্রষ্টারা তাঁদের সৃষ্টির মধ্য দিয়েই যুগে যুগে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকেন।

