বিশ্ব ব্রেন টিউমার দিবসে আধুনিক চিকিৎসার অগ্রগতি তুলে ধরল সিএমআরআই।প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ব্রেন টিউমার অস্ত্রোপচারে নতুন দিগন্ত, জানালেন বিশেষজ্ঞরা
তাপস রায়,কলকাতা, ৮ জুন: বিশ্ব ব্রেন টিউমার দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করল । অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের অধিকর্তা , চিকিৎসকবৃন্দ এবং ব্রেন টিউমারের সফল অস্ত্রোপচার করানো একাধিক রোগী। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল গত তিন দশকে ব্রেন টিউমার চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া যুগান্তকারী পরিবর্তন এবং তার ইতিবাচক প্রভাব।

সাংবাদিক বৈঠকে ড. অমিতাভ চন্দ জানান, আধুনিক ইমেজিং প্রযুক্তি, নিউরোন্যাভিগেশন সিস্টেম, ইনট্রাঅপারেটিভ মনিটরিং এবং ফ্লুরোসেন্স-গাইডেড সার্জারির মতো উন্নত প্রযুক্তির ফলে ব্রেন টিউমার অস্ত্রোপচার এখন অনেক বেশি নিরাপদ ও কার্যকর হয়েছে। অস্ত্রোপচারের আগে মস্তিষ্কের ভাষা, স্মৃতি, দৃষ্টিশক্তি ও চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলিকে নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি ‘অ্যাওয়েক ক্র্যানিওটমি’-র মতো আধুনিক পদ্ধতিতে রোগীকে সচেতন অবস্থায় রেখে অস্ত্রোপচার করে গুরুত্বপূর্ণ স্নায়বিক কার্যকারিতা অক্ষুণ্ণ রাখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বর্তমানে টিউমারের প্রকৃতি বিশ্লেষণ, অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা এবং চিকিৎসার ফলাফল পূর্বাভাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ন্যূনতম আঘাতমূলক (Minimally Invasive) এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতির মাধ্যমে নাকের পথ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কিছু ব্রেন টিউমার অপসারণ সম্ভব হচ্ছে, ফলে অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হতে সময়ও কম লাগছে।
অনুষ্ঠানে হাসপাতালের ইউনিট হেড বলেন, “বিশ্ব ব্রেন টিউমার দিবসে আমাদের লক্ষ্য শুধু উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা তুলে ধরা নয়, বরং রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ রোগীর সুস্থতার সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।” তিনি রোগী ও তাঁদের পরিবারের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন, যা চিকিৎসা-পরবর্তী মানসিক শক্তি জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা, হঠাৎ দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, খিঁচুনি, স্মৃতিভ্রংশ, অথবা শরীরের কোনও অংশে ক্রমবর্ধমান দুর্বলতা—এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ দ্রুত রোগ নির্ণয়ই ব্রেন টিউমার চিকিৎসার সাফল্যের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি।

উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতার অন্যতম শীর্ষ বহুমুখী হাসপাতাল সিএমআরআই বর্তমানে উন্নত নিউরোসার্জারি, ইএনটি, ম্যাক্সিলোফেসিয়াল, প্লাস্টিক ও রোবোটিক সার্জারির সমন্বয়ে জটিল ব্রেন টিউমার চিকিৎসায় পূর্ব ভারতের অন্যতম অগ্রণী কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।

