IMG 20260609

শিরদাঁড়া সোজা করার সুযোগ এসেছে বাঙালির

অত্যাধুনিক স্পাইন কেয়ারে নতুন আশার আলো, স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন রোগীরা

তাপস রায়,মুকুন্দপুর, : কেউ বললেন ভগবান,কারোর চোখের দুই কোল ভাসলো আনন্দ আবেগের অশ্রু জলে।এইরকম একটি সাকসেস স্টোরির কথার মাঝে শোনা হোল মেরুদণ্ড সমস্যার আধুনিক চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে Manipal Hospitals-এর মুকুন্দপুর ইউনিট। উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর স্পাইন সার্জারি ও সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে বহু রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। এই বার্তাকেই সামনে রেখে মঙ্গলবার হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় বিশেষ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ‘Precision at the Core’।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্পাইন সার্জন Dr. Anindya Basu, Dr. Pratyush Shahi এবং Dr. Sourav Ghosh। পাশাপাশি চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠা একাধিক রোগী তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কোমরের ব্যথা ও মেরুদণ্ডজনিত সমস্যা বিশ্বজুড়ে অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ। অনিয়মিত জীবনযাপন, দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, স্থূলতা ও বয়সজনিত কারণে এই সমস্যার প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র রোগ নিরাময় নয়, রোগীকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেওয়াই এখন চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম লক্ষ্য।

হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, মুকুন্দপুর ইউনিটে বর্তমানে অত্যাধুনিক O-Arm® 3D Imaging ও Navigation Technology ব্যবহার করে স্পাইন সার্জারি করা হচ্ছে। অস্ত্রোপচারের সময় মেরুদণ্ডের ত্রিমাত্রিক ছবি পাওয়ায় চিকিৎসকরা আরও নিখুঁতভাবে অপারেশন করতে পারছেন। ফলে জটিলতা কমছে এবং রোগীর সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়ছে।

এছাড়াও এন্ডোস্কোপিক স্পাইন সার্জারির মতো আধুনিক ও কম কাটা-ছেঁড়ার অস্ত্রোপচার পদ্ধতিও এখানে নিয়মিত করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার হওয়ায় ব্যথা কম হয়, হাসপাতালে কম সময় থাকতে হয় এবং রোগীরা দ্রুত দৈনন্দিন জীবনে ফিরতে পারেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. অনিন্দ্য বসু বলেন, “গত এক দশকে স্পাইন সার্জারিতে বিপ্লব ঘটেছে। ও-আর্ম নেভিগেশন ও এন্ডোস্কোপিক প্রযুক্তির সাহায্যে এখন জটিল অস্ত্রোপচারও অনেক বেশি নিরাপদ ও নির্ভুলভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি রোগীর জন্য সর্বোত্তম ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা।”

এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের অভিজ্ঞতা। নরেন্দ্রপুরের বাসিন্দা ৬৭ বছরের অশোক কুমার কর্মকার জানান, দীর্ঘদিন পায়ের তীব্র ব্যথায় ভোগার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারছেন এবং পরিবারের দৈনন্দিন কাজেও অংশ নিচ্ছেন।

হুগলির হরিপালের প্রতীক চট্টোপাধ্যায় এবং হালতুর বাসিন্দা তপন কুমার দে-ও তাঁদের সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, উন্নত চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁরা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ চিকিৎসক দল এবং সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার সমন্বয়ে স্পাইন কেয়ারের ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছে মুকুন্দপুরের এই হাসপাতাল। শুধু অস্ত্রোপচার নয়, ফিজিওথেরাপি, পুনর্বাসন, ব্যথা নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার মাধ্যমে রোগীদের সার্বিক সুস্থতার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে মেরুদণ্ডজনিত জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। আর আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা সেই লড়াইকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।
তাইআর সাত পাঁচ না ভেবে এটা বলা যায় বঙ্গবাসীর নিজের ঘর বাড়ি ছেড়ে ভিন রাজ্যে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার প্রয়োজন নেই।বাংলার যুবক প্রতীক চ্যাটার্জী থেকে অবসর প্রাপ্ত বর্ষীয়ান অশোক কর্মকার দের মত আপনি কোমর ব্যথা,চলাফেরার কষ্ট থেকে মুক্তি পান মনিপাল হসপিটা ল এর চিকিৎসক ডাঃ অনিন্দ্য বোসের করা অপারেশনের মাধ্যমে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *