তাপস রায়,কলকাতা, ২৫ জুলাই: দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও সচেতনতার অভাবে বহু রোগীকেই দীর্ঘদিন ডায়ালিসিসের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে কিডনি রোগীদের সচেতন, আত্মবিশ্বাসী ও স্বনির্ভর করে তুলতে এক অভিনব উদ্যোগ নিল মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া। মণিপাল ইনস্টিটিউট অফ নেফ্রোলজি অ্যান্ড ইউরোলজির উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডায়ালিসিস পেশেন্ট সামিট’-এ ৫০ জনেরও বেশি ডায়ালিসিস রোগী, কিডনি প্রতিস্থাপনপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা কিডনি রোগ সম্পর্কে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা দূর করার পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, সময়মতো চিকিৎসা এবং কিডনি প্রতিস্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। রোগীদের জন্য ডায়েটেটিক্স, ফিজিওথেরাপি, সাইকোলজি, ডায়ালিসিস সার্ভিসেস ও পেরিটোনিয়াল ডায়ালিসিস বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পৃথক পরামর্শ কেন্দ্রও গড়ে তোলা হয়, যেখানে রোগী ও তাঁদের পরিবার সরাসরি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পান।

ডা. অর্ঘ্য মজুমদার বলেন, কিডনি রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। অন্যদিকে ডা. উপল সেনগুপ্ত জানান, উপযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে কিডনি প্রতিস্থাপন দীর্ঘমেয়াদে উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ এনে দিতে পারে এবং এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত ছিল কিডনি প্রতিস্থাপনের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা রোগীদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া। তাঁদের বাস্তব জীবনের সংগ্রাম, সাফল্য এবং নতুন করে বেঁচে ওঠার গল্প উপস্থিত রোগীদের অনুপ্রাণিত করে। পাশাপাশি আয়োজিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় সাহস ও জীবনসংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ কয়েকজন রোগীকে সম্মানিত করা হয়।হাসপাতালের ডিস্ট্রিক্ট ডিরেক্টর দিলীপ কুমার রায় বলেন, উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি রোগীদের মানসিক শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন ফিরিয়ে দেওয়াও তাঁদের দায়িত্ব। ডায়ালিসিস পেশেন্ট সামিট সেই লক্ষ্যেই রোগী, পরিবার ও চিকিৎসকদের মধ্যে এক মানবিক সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
