File 00000000f1848207befdf444087f3f77

WICCI র ডাকে র‍্যাম্পে হাঁটলেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ!

আটপৌরে শাড়িতে ঐতিহ্যের রঙ, WICCI-র ‘ধরোহর ৪.০’

তাপস রায়,কলকাতা, ৪ আগস্ট: আটপৌরে শাড়ির ভাঁজে যেন ধরা পড়ল বাংলার মাটি, আর হাতে বোনা কাপড়ের বুননে ফিরে এল ভারতের বহু শতকের ঐতিহ্য। জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘ধরোহর ৪.০’ সেই ঐতিহ্যকেই নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরল শিল্প, সংস্কৃতি ও সচেতন ফ্যাশনের এক অনন্য আয়োজনে। WICCI-র ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্টস লিডারশিপ কাউন্সিল এবং ‘ক্যান্ডিড বাই পরমিতা’-র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বারবার উঠে এল একটাই বার্তা—হ্যান্ডলুম কেবল পোশাক নয়, এটি ভারতীয় সংস্কৃতি, ইতিহাস ও কারুশিল্পের জীবন্ত পরিচয়।

1000514898

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের মুখপাত্র কেয়া ঘোষ। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী রিচা শর্মা, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের কো-চেয়ারপার্সন মনোশী রায়চৌধুরী, এইচসিজি ক্যান্সার হাসপাতালের রিজিওনাল বিজনেস হেড (ইস্ট) ডা. রূপালি বসু, দ্য হেরিটেজ স্কুলের অধ্যক্ষা সীমা সাপরু, অভিনেত্রী সায়ন্তনী গুহঠাকুরতা এবং চলচ্চিত্র পরিচালক সুদেষ্ণা রায়-সহ সমাজের নানা ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

1000514558

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল হ্যান্ডলুম ফ্যাশন ওয়াক। আটপৌরে শাড়ি-সহ দেশের নানা প্রান্তের ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা পোশাকে র‌্যাম্পে হাঁটেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। তাঁদের উপস্থিতি যেন জানিয়ে দিল, হাতে বোনা কাপড় কখনও পুরনো হয় না; বরং সময়ের সঙ্গে তার আবেদন আরও গভীর হয়। দেশীয় তাঁতশিল্প, তাঁতিদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনের গুরুত্বও উঠে আসে এই আয়োজনে।

1000514572

শুধু ফ্যাশন নয়, দর্শকদের জন্য ছিল দেশজ হস্তশিল্প, গয়না, বস্ত্র, লাইফস্টাইল ও ওয়েলনেস পণ্যের বিশেষ প্রদর্শনী। কারিগরদের হাতে তৈরি প্রতিটি সৃষ্টি যেন বলছিল ভারতীয় শিল্প-ঐতিহ্যের একেকটি গল্প।

1000514583

‘ক্যান্ডিড বাই পরমিতা’-র প্রতিষ্ঠাতা-নির্দেশক এবং WICCI ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্টস লিডারশিপ কাউন্সিলের সভাপতি পরমিতা ঘোষ বলেন, ভারতের তাঁতশিল্প আমাদের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের এক অমূল্য সম্পদ। এই ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান আরও বাড়িয়ে তুলতেই ‘ধরোহর’-এর আয়োজন। কাউন্সিলের সহ-সভাপতি তথা কিউইডি ইন্ডিয়ার সিইও অনীশা সিং মোটওয়ানি বলেন, হাতে বোনা প্রতিটি কাপড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একজন কারিগরের দক্ষতা, পরিশ্রম ও ইতিহাস। সেই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব সমাজের সকলের। দ্য স্যাটারডে ক্লাবের আর্ট অ্যান্ড কালচার সাব-কমিটির চেয়ারপার্সন নীরজ কাপুরও এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে একই মঞ্চে তুলে ধরার এমন প্রয়াস সময়ের দাবি।

1000514475

ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার সেতুবন্ধন গড়ে ‘ধরোহর ৪.০’ আবারও মনে করিয়ে দিল, ভারতের তাঁতশিল্প কোনও অতীতের স্মৃতি নয়; আজও তা দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম উজ্জ্বল প্রতীক। আর সেই উত্তরাধিকারকে আগামী প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার অঙ্গীকারেই সার্থক হল WICCI-র এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *