তাপস রায়,দক্ষিণ কলকাতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে সাউথ সিটি কলেজের সামনে এক অভিনব উদ্যোগে পথনাটকের মাধ্যমে জলে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ ও সিপিআর শেখার গুরুত্ব তুলে ধরল সিনি। জনস্বাস্থ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সংকটকে সামনে আনতেই এই আয়োজন।
“ঘুম ভাঙানোর গান”—এই পথনাটকের মধ্য দিয়ে ব্যঙ্গ, আবেগ ও দৈনন্দিন জীবনের গল্পে উঠে এল এক অস্বস্তিকর বাস্তব। বড় কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা সরব হই, কিন্তু প্রতিদিন নীরবে যে এতগুলো প্রাণ হারিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে শিশুদের—সেটা প্রায় অদেখাই থেকে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ ডুবে মারা যান। ভারতে এই সমস্যা যথেষ্ট বড় হলেও, এখনও তা প্রাপ্য গুরুত্ব পায় না। আমাদের রাজ্যে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ জন শিশুর জলে ডুবে মৃত্যু হয়। বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটে বাড়ির কাছেই থাকা পুকুর বা জলাশয়ে।
এই আয়োজনের মাধ্যমে জলে ডুবে মৃত্যুতে হারানো সকলের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। একই সঙ্গে তুলে ধরা হয়—সময়মতো সিপিআর জানা থাকলে অনেক জীবনই বাঁচানো সম্ভব।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশিষ্ট বাঙালি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিশিষ্ট গায়ক জুবিন গর্গ-এর আকস্মিক জলে ডুবে মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দেয়—জল যে কারও জীবন কেড়ে নিতে পারে, আর সময়মতো সঠিক পদক্ষেপই পারে একটি জীবন বাঁচাতে।
অনুষ্ঠানে হাতে-কলমে সিপিআর প্রদর্শন করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেন জরুরি মুহূর্তে কীভাবে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হয়।
সিনির পক্ষ থেকে সুজয় রায় জানান, সিপিআর শেখা শুধু একটি দক্ষতা নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।
নাটকটি দেখে উপস্থিত এক কলেজ ছাত্র স্বর্ণাভ বলেন,
“আমরা কি সবসময় কোনো দুর্ঘটনার পরেই প্রতিরোধের কথা ভাবি? কেউ তো বলেনি যে বিষয়টা এত গুরুতর—এই শিশুদের জন্য আমরা যথেষ্ট আওয়াজ তুলছি না কেন?”
স্বাস্থ্য দপ্তর ইতিমধ্যেই জলে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে নির্দেশিকা জারি করেছে, ফলে এর বাস্তবায়ন নিয়ে আশাও বাড়ছে। আপাতত আন্তর্জাতিক সংস্থা আরএনএলআই-এর সহায়তায় সিনি এই সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের কাজ চালিয়ে যাবে।
দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল স্তরে কাজ করে সিনি এমন একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে, যেখানে প্রায় ছয় হাজার প্রশিক্ষিত মানুষ জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে প্রস্তুত।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য—মানুষকে সচেতন করা, জীবন বাঁচানোর দক্ষতা ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুকে রুখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা।
এই পথনাটককে কেন্দ্র করে পথচলতি মানুষের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

