তাপস রায়,কলকাতা, ৬ অক্টোবর: খাদ্য নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা সম্পন্ন করার পর ফের এফএসএসএআই-এর অনুমোদন পেল বালারাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক সুইট প্রাইভেট লিমিটেডের বি.এল. সাহা রোডের কারখানা। মঙ্গলবার কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে সংস্থার একক মালিক ও পরিচালক গৌতম মল্লিক এবং পরিচালক ঋষভ মল্লিক লাইসেন্স পুনর্বহাল এবং কারখানায় নেওয়া বিভিন্ন সংশোধনমূলক পদক্ষেপের কথা জানান।সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণের পর কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টাইফয়েড টিকাকরণ, খাদ্য প্রস্তুতি ও পরিচ্ছন্নতার নিয়ম আরও কঠোর করা, বর্জ্য পৃথকীকরণের জন্য নির্দিষ্ট নীল ও সবুজ পাত্র ব্যবহার, খাদ্য প্রস্তুতকারীদের অ্যাপ্রন, দস্তানা ও মাথার আবরণ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি তৈরি ও আধা-তৈরি খাবারে তারিখের ট্যাগ, নিয়মিত কীটনাশক নিয়ন্ত্রণের নথিপত্র, খাদ্য সংরক্ষণে ঢাকনাযুক্ত ক্রেট ও খাদ্যোপযোগী পাত্র ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।কারখানার পরিকাঠামোতেও একাধিক উন্নয়ন করা হয়েছে। টাইলস বসানো, চিমনি ও বায়ু নিষ্কাশন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় মেরামতি ও উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদনস্থলের পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে সংস্থার দাবি।

গৌতম মল্লিক বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও গুণমান তাঁদের ব্যবসার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণের পর প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ফের অনুমোদন পাওয়ায় তাঁরা সন্তুষ্ট। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের ক্রেতাদের আস্থা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।সংস্থার পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা শুধুমাত্র বি.এল. সাহা রোডের কারখানার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল। টালিগঞ্জ-সহ অন্যান্য বিপণিতে এর কোনও প্রভাব পড়েনি। প্রতিটি বিপণির নিজস্ব এফএসএসএআই অনুমোদন রয়েছে এবং সেগুলি নিজ নিজ নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে।এদিকে কলকাতায় ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কালিঘাটে নতুন বিপণি খোলার কথাও ঘোষণা করেছে সংস্থা। পুজোর পর কালিঘাট মন্দিরের সামনে নতুন শাখা ঘিরে ক্রেতাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই উৎসাহ তৈরি হয়েছে। সেখানে সংস্থার ঐতিহ্যবাহী বাংলা মিষ্টির পাশাপাশি অন্যান্য খাদ্যপণ্যও পাওয়া যাবে। নতুন শাখা খোলার আগে থেকেই মিষ্টির দোকানের সামনে মানুষের লাইন পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রায় ১৪০ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী বালারাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক কলকাতার মিষ্টি ও খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। বর্তমানে কলকাতায় নিউ আলিপুর, সন্তোষপুর, বেহালা ম্যান্টন, ঠাকুরপুকুর, টালিগঞ্জ, যাদবপুর, মুকুন্দপুর ও চিনার পার্কে সংস্থার আটটি মিষ্টির দোকান আছে।
