তাপস রায়, বিধাননগর:বাঙালির নিজস্ব সৃষ্টি, সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে অটুট রাখার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী প্রথাগুলিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে উদ্যোগী ‘ভূতের রাজা দিল বর’। সেই ভাবনা থেকেই এবার ভূত চতুর্দশীকে কেন্দ্র করে এক অভিনব আয়োজন করল সংস্থাটি।
সংস্থার কর্ণধার রাজীব পালের কথায়, “আজকের প্রজন্মের মধ্যে হ্যালোইন নিয়ে যতটা মাতামাতি দেখা যায়, তার সিকিভাগ ধারণাও অনেকের নেই বাঙালির নিজস্ব ভূত চতুর্দশী সম্পর্কে।” তাঁর মতে, বিদেশি সংস্কৃতির উদযাপনে মেতে ওঠার পাশাপাশি বাঙালির নিজস্ব ঐতিহ্য ও লোকাচার সম্পর্কেও নতুন প্রজন্মের আগ্রহ তৈরি হওয়া জরুরি। আর সেই লক্ষ্যেই বাঙালির প্রায় বিস্মৃত হয়ে যাওয়া প্রথাগুলিকে নতুন করে ফিরিয়ে আনার সংকল্প নিয়েছে ‘ভূতের রাজা দিল বর’।

এই উপলক্ষে ৩১ অক্টোবর, শনিবার, বেলা ৩টেয় সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে ‘ভূতের রাজা দিল বর’-এর শাখায় আয়োজিত হয় এক ভৌতিক অনুষ্ঠান। ভূত নিয়ে গা ছমছমে, রোমহর্ষক অথচ মজাদার নানা গল্পের পাশাপাশি অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশেষ ‘ভূতের থালি’ এবং বিভিন্ন ভূতের নামে নামাঙ্কিত অভিনব সব খাবারের পদ। উপস্থিত ছিলেন ভূত বিশেষজ্ঞরাও। আর অনুষ্ঠানের চমক বাড়াতে হাজির হয়েছিল স্বয়ং ব্রহ্মদৈত্য ও গেছো ভূত!

খাওয়াদাওয়া, গল্প আর ভৌতিক আবহের মেলবন্ধনে গোটা অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। বাঙালির লোকসংস্কৃতি ও ভূতকেন্দ্রিক গল্পকথাকে খাবারের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরার এই প্রয়াস নিঃসন্দেহে অভিনব।

৩১ অক্টোবর থেকে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ‘ভূতের রাজা দিল বর’-এর সবকটি শাখায় মিলবে ভূতের হাতে তৈরি নানা স্বাদের বিশেষ পদ। এই অভিনব ভৌতিক খাদ্য-উৎসবে সামিল হতে সকলকে সাদর আমন্ত্রণ জানিয়েছে সংস্থাটি। বাঙালির নিজস্ব ভূত-সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ কতটা সাড়া ফেলে, এখন সেটাই দেখার।