কলকাতা
নিজের প্রিয় শিল্পী সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের এর প্রতি শ্রদ্ধা, অনুরাগ ও তার গানের চর্চার তালিকায় রেখে স্বীকৃতি হিসেবে লতা মঙ্গেশকরের স্মৃতি পুরস্কার পেলেন।দক্ষিণ ২৪ পরগনার কৃতী সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, শিক্ষিকা এবং সঙ্গীত ভারতী ড. দীপশ্রী পাল।

গত ৫ জুলাই কলকাতা প্রেস ক্লাবে ভিশন অফ বেঙ্গল ও অল বেঙ্গল রিপোর্টার্স ক্লাব-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিশ্ব মানবরত্ন সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে বাংলার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সম্মানিত করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ড. দীপশ্রী পাল, হালিমা খাতুন, অনুরাগ বসু, সুবিমল দাস, মহারাজ প্রণবানন্দ তীর্থনাথ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট সাংবাদিক সরোজ চক্রবর্তী, ড. বংশীবদন চট্টোপাধ্যায়-সহ সংগঠনের অন্যান্য কর্মকর্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গীতচর্চা, বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে নিষ্ঠা এবং শিল্পের প্রতি তাঁর একাগ্র সাধনা ড. দীপশ্রী পালকে এই সম্মানের যোগ্য করে তুলেছে।

শৈশব থেকেই লতা মঙ্গেশকরের গান তাঁর শিল্পীজীবনের প্রধান অনুপ্রেরণা। সেই অনুপ্রেরণাকে হৃদয়ে ধারণ করেই তিনি সঙ্গীতচর্চায় নিজস্ব স্বাক্ষর গড়ে তুলেছেন। শিল্পী হিসেবে যেমন তিনি নিজের লেখা গান ও নিজস্ব সুরসৃষ্টিতে সমান পারদর্শী, তেমনি একজন শিক্ষিকা হিসেবেও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভূগোল শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত থাকলেও তাঁর শিল্পসাধনা কখনও থেমে থাকেনি।

তবে এই সম্মানপ্রাপ্তির সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল পুরস্কারটি তাঁর অসুস্থ মায়ের হাতে তুলে দেওয়া। ড. দীপশ্রী পালের বিশ্বাস, জীবনের প্রতিটি সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন তাঁর মা। তাই লতা মঙ্গেশকরের স্মৃতিবিজড়িত এই সম্মান প্রথমেই মায়ের হাতে তুলে দিয়ে তিনি যেন নিজের সাফল্যের প্রকৃত আনন্দ খুঁজে পান।

উল্লেখ্য, এর আগেও তিনি মান্না দে সম্মান এবং ভি. বালসারা সম্মান-সহ একাধিক মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতিতে ভূষিত হয়েছেন। নতুন এই সম্মান তাঁর সঙ্গীতজীবনে আরও এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করল। সঙ্গীত, শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর নিরলস নিষ্ঠা আগামী দিনেও বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
