তাপস রায়: কলকাতার পূর্ব ক্ষেত্রীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (EZCC)-এ ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সংস্কার ভারতী ও EZCC-এর যৌথ উদ্যোগে এক ভাবগম্ভীর স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রীয় গীত, জাতীয় সংগীত, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও দীপমন্ত্র পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব ক্ষেত্রীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের অধিকর্তা আশীষ গিরি, বিশিষ্ট সাহিত্যিক হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত, সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের বিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের কার্যকর্তা যিষ্ণু বসু এবং সংস্কার ভারতী পশ্চিমবঙ্গের কার্যকরী সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সুভাষ ভট্টাচার্য্য। উত্তরীয়, স্মারক ও চারাগাছ দিয়ে অতিথিদের সংবর্ধনা জানানো হয়। বক্তারা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির বহুমুখী জীবন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা, শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান, স্বাধীন ভারতের শিল্পনীতি গঠনে তাঁর নেতৃত্ব এবং তাঁর জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সংস্কার ভারতীর সদস্য ও বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী শীর্ষ আচার্যের লাইভ পেইন্টিং। তিনি মঞ্চেই অ্যাক্রিলিক রঙে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন, যা পরে সংস্কার ভারতীর পক্ষ থেকে EZCC-এর অধিকর্তা আশীষ গিরির হাতে স্মারক হিসেবে তুলে দেওয়া হয়।

পরবর্তী সাংস্কৃতিক পর্বে উত্তর কলকাতার সঙ্গীতাঞ্জলির দেশাত্মবোধক সমবেত সঙ্গীত, দক্ষিণ কলকাতা ও হাওড়া গ্রামীণের শিল্পীদের যৌথ সংগীতালেখ্য এবং কাবেরী পুইতন্ডীর তত্ত্বাবধানে শাস্ত্রীয় ও ভাবনৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির আদর্শ, জাতীয় চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে স্মরণ করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি উপস্থিত দর্শকদের কাছে এক স্মরণীয় সন্ধ্যায় পরিণত হয়।

