পুরস্কার বিতরণীতে শিক্ষাগত উৎকর্ষ ও সৃজনশীলতার উৎসব সাউথ পয়েন্টে
তাপস রায়, নজরুল মঞ্চ: কলকাতার শিক্ষাগত উৎকর্ষ, সৃজনশীলতা এবং সর্বাঙ্গীণ বিকাশকে উদযাপন করে সাউথ পয়েন্ট স্কুল ও সাউথ পয়েন্ট হাই স্কুলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকারও এদিন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রাক্তনী এবং বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া এবং ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী তথা সাউথ পয়েন্টের বিশিষ্ট প্রাক্তনী ড. ইন্দ্রনীল খান। তিনি কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভেচ্ছা জানান।
মঙ্গলাচরণ ও স্কুল সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সাউথ পয়েন্ট স্কুলের অধ্যক্ষা দলবীর কৌর চাড্ডা স্বাগত ভাষণে গত শিক্ষাবর্ষে দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাগত, সহ-পাঠ্যক্রমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পরবর্তীতে সাউথ পয়েন্ট হাই স্কুলের অধ্যক্ষ জয়দেব ঘোষ, ট্রাস্টিজ অ্যান্ড গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য এস. কে. ডাগা এবং সাউথ পয়েন্ট এডুকেশন সোসাইটির ডিরেক্টর এ. সি. চক্রবর্তী ও রূপা সান্যাল ভট্টাচার্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের সম্মানিত করেন।

দ্বিতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণির প্রথম স্থানাধিকারী এবং প্রথম দশে স্থানপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মানিত করা হয়। পাশাপাশি এম. পি. বিড়লা স্মারক কোষ ফাউন্ডার্স মেডেল ফর বেস্ট অলরাউন্ডার, অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সেলেন্স ইন কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ, এম. পি. বিড়লা স্পেশাল ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ড-সহ একাধিক মর্যাদাপূর্ণ সম্মান প্রদান করা হয়। বিভিন্ন হাউসের সাফল্য এবং আন্তঃস্কুল ‘কলাকোষ’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদেরও পুরস্কৃত করা হয়। সামাজিক সেবায় উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ‘পূজা উইথ আ হার্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয় দমদম পার্ক তরুণ সংঘকে।

অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বও ছিল সমান আকর্ষণীয়। সাউথ পয়েন্ট স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত ‘আলাদিন’ সঙ্গীত, নৃত্য ও নাট্যের সমন্বয়ে সাহস, সহমর্মিতা ও আশার বার্তা তুলে ধরে দর্শকদের মুগ্ধ করে। অন্যদিকে সাউথ পয়েন্ট হাই স্কুলের ‘লস্ট পেজেস’ প্রযোজনায় ডিজিটাল নির্ভরতার প্রেক্ষাপটে শিশুদের বই পড়ার আনন্দে ফিরে আসার অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়। দুই প্রযোজনাই শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি এবং অর্থবহ শিক্ষার গুরুত্বকে উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরে।

