গুরগাঁও থেকে কলকাতা—আস্থার যাত্রায় সফল হার্ট ইন্টারভেনশন
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ব্যবসায়িক কাজে গুরগাঁওয়ে থাকা ৫৬ বছর বয়সি ব্যবসায়ী আফসার আহমেদ খানের হঠাৎ বুকে ব্যথা ও তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তিনি প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে যান। তবে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। চিকিৎসাগত পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করেন কলকাতা হার্ট লাং সেন্টার হসপিটাল এর ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট, কনসালটেন্ট ডাঃ আদিল বাশির ওয়াশিল এর সঙ্গে।
ECG পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে দ্রুত ডুয়াল অ্যান্টিপ্লেটলেট থেরাপি (DAPT) এবং স্ট্যাটিনের উপযুক্ত লোডিং ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দেন। চলমান হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার মধ্যে এক শহর থেকে অন্য শহরে বিমানযাত্রার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল ও চিকিৎসক ডাঃ আদিল বাশির ওয়াসিলের প্রতি আস্থা রেখে গুরগাঁও থেকে কলকাতায় আসার সিদ্ধান্ত নেন আফসার আহমেদ খান।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণের পর গভীর রাতে বিমানে কলকাতায় পৌঁছন তিনি। হাসপাতালে পৌঁছনোর পর আর কোনও সময় নষ্ট না করে তাঁর করোনারি অ্যানজিওগ্রাফি করা হয়। পরীক্ষায় গুরুতর করোনারি আর্টারি ডিজিজের পাশাপাশি OM (Obtuse Marginal) ব্রাঞ্চে সম্পূর্ণ রক্তনালি বন্ধ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে কার্ডিওলজি টিম দ্রুত অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির সিদ্ধান্ত নেয়। সফলভাবে ইন্টারভেনশন সম্পন্ন করে বন্ধ হয়ে যাওয়া রক্তনালিতে একটি ড্রাগ-এলুটিং স্টেন্ট প্রতিস্থাপন করা হয়। এর ফলে রক্ত চলাচল পুনরুদ্ধার হয় এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হয়।
চিকিৎসা প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর স্থিতিশীল অবস্থায় আফসার আহমেদ খানকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
গুরগাঁও থেকে কলকাতা—এই ঘটনাটি শুধু একটি সফল কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশনের কাহিনি নয়; সময়মতো চিকিৎসাগত সিদ্ধান্ত, রোগীর সাহস ও চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা এবং একটি দক্ষ কার্ডিয়াক টিমের সমন্বিত প্রচেষ্টারও এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।
এই ঘটনায় চিকিৎসক ডাঃ আদিল বাশির ওয়াসিল এবং কলকাতা হার্ট লাং সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কার্ডিয়াক টিমের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সমন্বিত চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
