IMG 20260702 WA0036

সংস্কৃতির উজ্জ্বল বন্ধন


চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরামে ভারতের কণ্ঠস্বর: স্বাস্থ্য, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে নতুন দিশা দেখালেন ডা. চৈতালি দাস

কলকাতা: চীনের কুনমিং শহরে অনুষ্ঠিত চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরাম ২০২৬-এর সপ্তম অধিবেশনে স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন, নারী নেতৃত্ব, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন বিশিষ্ট সমাজউদ্যোক্তা ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক প্রবক্তা ডা. চৈতালি দাস। ফোরাম শেষে কলকাতায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক মঞ্চে ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

1000461828

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের কলকাতাস্থ কনসাল জেনারেল মহামান্য সু ওয়েই। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সেই সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দলের সদস্যরা, যারা আন্তর্জাতিক এই ফোরামে ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করেন।

ইউনান প্রদেশের বৈদেশিক বিষয়ক দপ্তরের আমন্ত্রণে ডা. চৈতালি দাস চীন–দক্ষিণ এশিয়া চিন্তক ফোরামে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট চিন্তাবিদদের সামনে সুস্থতা, টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব পণ্য, আঞ্চলিক স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা, পরিবেশভিত্তিক পর্যটন, গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন, গ্রামীণ প্রশাসন, নারী নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন এবং ভারত–চীনের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তাঁর বক্তব্যের অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব ছিল চীন–দক্ষিণ এশিয়া ক্যানসার চিকিৎসা বিনিময় কর্মসূচি গঠন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের হাসপাতাল, গবেষক ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, ক্যানসার গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, রোগীদের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করা, চিকিৎসাবিষয়ক জ্ঞান বিনিময় এবং ক্যানসারজয়ীদের চিকিৎসা-পরবর্তী মানসিক পুনর্বাসনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

ডা. দাস তাঁর বক্তব্যে যোগব্যায়াম ও তাই চি-এর মতো ঐতিহ্যবাহী সুস্থতা চর্চার মাধ্যমে ভারত ও চীনের অভিন্ন সভ্যতাগত ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন, টেকসই জীবিকা, গ্রামীণ উদ্ভাবন এবং নারী নেতৃত্বাধীন সামাজিক উদ্যোগে দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান।

সাংবাদিক সম্মেলনে ডা. চৈতালি দাস বলেন, “চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরাম প্রমাণ করেছে যে টেকসই উন্নয়নের সর্বোত্তম পথ হলো সংলাপ, জ্ঞান বিনিময় এবং মানুষকেন্দ্রিক অংশীদারিত্ব। আমার বিশ্বাস, স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারত ও চীন আরও শক্তিশালী সহযোগিতার সেতুবন্ধন গড়ে তুলে এই অঞ্চলের জন্য আরও সুস্থ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারে।”

ফোরামের সমাপ্তিতে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংযোগ এবং সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততার ওপর নতুন করে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ ভারত ও চীনের মধ্যে গঠনমূলক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে জনগণের সঙ্গে জনগণের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।প্রয়োজন হলে এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত করে সংবাদপত্রের কলাম-উপযোগী সংস্করণ বা ওয়েবসাইট প্রকাশের জন্য SEO-উপযোগী সংস্করণও তৈরি করে দিতে পারি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *