Images (24)

অ্যাপেলোতেই সামান্য অস্ত্রোপচারে হাঁটু হচ্ছে শক্তিশালী !

সম্পূর্ণ হাঁটু প্রতিস্থাপনের বিকল্প হিসেবে কম আঘাত, দ্রুত আরোগ্য ও স্বাভাবিক চলাচলের প্রতিশ্রুতি।

তাপস রায়,প্রেস ক্লাব,কলকাতা, ১২ জুন: অর্থোপেডিক চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা করল অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল, কলকাতা। হাঁটুর জটিল সমস্যার চিকিৎসায় ‘প্রিসিশন পার্শিয়াল নি রিকনস্ট্রাকশন সার্জারি’-র আনুষ্ঠানিক সূচনা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার এক বিশেষ মেডিক্যাল ব্রিফিংয়ে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা পদ্ধতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন হাসপাতালের বিশিষ্ট অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র কনসালট্যান্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. রঞ্জন কামিল্যা এবং কনসালট্যান্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. সৌমেন কর। তাঁরা জানান, এই আধুনিক অস্ত্রোপচার পদ্ধতিতে হাঁটুর শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত অংশটুকু প্রতিস্থাপন করা হয়। ফলে সুস্থ হাড়, লিগামেন্ট এবং আশপাশের টিস্যুগুলি অক্ষত থাকে, যা রোগীর স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখতে সহায়তা করে।

1000430032

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিকম্পার্টমেন্টাল নি রিপ্লেসমেন্ট (UKR) বা পার্শিয়াল নি রিকনস্ট্রাকশনের কার্যকারিতা আন্তর্জাতিক স্তরে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। অক্সফোর্ড ফেজ-৩ UKR গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এই ইমপ্লান্টের কার্যকারিতা ১০ বছরে ৯৩ শতাংশ এবং ১৫ বছরে ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত বজায় থাকে। এছাড়াও, প্রচলিত টোটাল নি রিপ্লেসমেন্ট (TKR)-এর তুলনায় এই পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচারের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ কম।

1000429229

চিকিৎসকরা জানান, অস্ত্রোপচারের পরে রোগীদের হাঁটুর কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যেই রোগীরা দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং স্বল্প-প্রভাবযুক্ত খেলাধুলায় ফিরতে পারেন, যেখানে টোটাল নি রিপ্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে পুনর্বাসনের জন্য তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

ডা. রঞ্জন কামিল্যা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে টোটাল নি রিপ্লেসমেন্টকেই হাঁটুর গুরুতর সমস্যার একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক রোগীর সম্পূর্ণ হাঁটু প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয় না। প্রিসিশন পার্শিয়াল নি রিকনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত অংশের চিকিৎসা করা সম্ভব, ফলে শরীরে আঘাত কম লাগে, সুস্থ হতে কম সময় লাগে এবং হাঁটুর স্বাভাবিক অনুভূতি অনেকটাই বজায় থাকে।”

1000429232

তিনি আরও জানান, বর্তমানে শুধুমাত্র প্রবীণরাই নয়, অপেক্ষাকৃত কম বয়সী মানুষও হাঁটুর ব্যথা ও জয়েন্টের ক্ষয়জনিত সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অতিরিক্ত জয়েন্ট স্ট্রেস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে তরুণ পেশাজীবীদের মধ্যেও এই সমস্যা দ্রুত বাড়ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের হার ২২ থেকে ৩৯ শতাংশের মধ্যে, যা ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে বেড়ে ৪৪ থেকে ৫০ শতাংশে পৌঁছায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মিনিমালি ইনভেসিভ এই প্রযুক্তি অস্ত্রোপচারের পর ব্যথা কমায়, হাসপাতালে থাকার সময়সীমা হ্রাস করে এবং দ্রুত পুনর্বাসনে সহায়তা করে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ হাঁটু প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন পিছিয়ে দিতে বা এড়িয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে।

অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল, কলকাতা জানিয়েছে, উন্নত সার্জিক্যাল পরিকল্পনা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিষেবা আরও শক্তিশালী করাই তাদের লক্ষ্য। এই নতুন উদ্যোগ সেই প্রচেষ্টাকেই আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *