লন্ডন, ২৬ জুন: ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ঐতিহাসিক হাউস অব লর্ডস-এ জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো তৃতীয় বেঙ্গল ব্রিটিশ আইকন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬। ব্যারোনেস উদ্দিনের আতিথেয়তায় এবং ক্যান্ডিড কমিউনিকেশন ইউকে-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভারত, বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে তাঁদের অসামান্য অবদানের জন্য সম্মানিত করা হয়।
হাউস অব লর্ডসের ঐতিহ্যবাহী চলমন্ডলি রুম অ্যান্ড টেরেস-এ অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যারোনেস উদ্দিন, ব্যারোনেস উইন্টারটন অব ডনকাস্টার, প্রাক্তন সাংসদ বিরেন্দ্র শর্মা, আতীক চৌধুরী, খালেদা চৌধুরী, হাসিনা খান এবং শিলা রশিদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রাক্তন বিবিসি ও স্কাই নিউজ উপস্থাপক সারা লকেট।
এবারের সম্মানপ্রাপকদের মধ্যে ছিলেন এসবিআই ইউকে-এর সিইও ও এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শকুন্তলা সান্যাল, ফ্যাশন ডিজাইনার জয়া মিশ্র, গুডএস হাসপাতালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সোমা চক্রবর্তী, এনটিভি ইউরোপের সিইও সুব্রিনা হোসেন, ডি মন্টফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ড. পারভেজ ইকবাল হারিস, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবী ড. সৈয়দ রাগিব আলি, এটিএন বাংলা-র প্রতিষ্ঠাতা তপন রায়, কলকাতার সেন্ট সেবাস্টিয়ানস স্কুলের অধ্যক্ষ ড. এম. পি. রোজারিও, প্যারালিম্পিক কমিটি অব ইন্ডিয়ার সহ-সভাপতি সত্য প্রকাশ সাংওয়ান, রাজীব সভারওয়াল, সঞ্জয় মুখার্জি, প্রকাশ ঘোষ, ড. চিন্ময় রায়, সোমবুদ্ধ ঘোষ, সোহানি হোসেন, অধ্যাপক বিশ্বজয় চট্টোপাধ্যায়, অধ্যাপক সত্যজিৎ চক্রবর্তী, আইইএম, জ্যাক অলিভলের রাজর্ষি দাস ও রীতেশ দাস।
এছাড়াও সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি, ইউইএম-আইইএম গ্রুপ, ডে’জ মেডিক্যাল, গো এভরিহোয়ার ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস এবং শ্রীনাথ গ্লোবাল-কে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত ছিল প্রয়াত দবিরুল ইসলাম চৌধুরী ওবিই-কে মরণোত্তর সম্মান প্রদান। সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই বিশেষ সম্মান জানানো হয়।
অনুষ্ঠান শেষে সম্মানপ্রাপকদের জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিশেষ গাইডেড ট্যুরের আয়োজন করা হয়। পরে ব্যারোনেস উদ্দিনের আয়োজিত নেটওয়ার্কিং লাঞ্চে বিশিষ্ট অতিথি, পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিনিময় ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
ক্যান্ডিড কমিউনিকেশন ইউকে-র ডিরেক্টর সায়ন্তন দাস অধিকারী বলেন, “বেঙ্গল ব্রিটিশ আইকন অ্যাওয়ার্ডস শুধু সম্মান প্রদানের অনুষ্ঠান নয়, এটি সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে উৎকর্ষ, নেতৃত্ব, উদ্ভাবন ও সমাজসেবার এক আন্তর্জাতিক উদ্যাপন। একই সঙ্গে এই মঞ্চ যুক্তরাজ্য, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও পেশাগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে।”

