অন্নসেবায় মানবতার দৃষ্টান্ত: ক্যান্সার ও শিশু হাসপাতালের রোগীর পরিজনদের পাশে ভক্তি বেদান্ত অন্নক্ষেত্র
তাপস রায়,দক্ষিণ কলকাতা:চিকিৎসার দীর্ঘ লড়াইয়ে রোগীর পাশাপাশি সমানভাবে সংগ্রাম করতে হয় তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও। বিশেষত দূরদূরান্ত থেকে কলকাতায় চিকিৎসার জন্য আসা অসংখ্য পরিবারের কাছে প্রতিদিনের খাবারের ব্যবস্থা করাও হয়ে ওঠে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই মানবিক প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই এগিয়ে এসেছে ভক্তি বেদান্ত রিসার্চ সেন্টার ট্রাস্ট, যা ইস্কনের একটি একাডেমিক ও সমাজসেবামূলক উদ্যোগ।

ট্রাস্টের উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে ‘ভক্তি বেদান্ত অন্নক্ষেত্র’, যার মাধ্যমে প্রতি বৃহস্পতিবার নিয়মিতভাবে কলকাতার শিশুমঙ্গল হাসপাতাল এবং চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসপাতাল চত্বরে রোগীদের পরিজনদের মধ্যে বিনামূল্যে পুষ্টিকর প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বহু রোগী দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসেন। তাঁদের সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যদের অধিকাংশ সময় চিকিৎসার ব্যয় বহন করতেই বিপুল অর্থ খরচ হয়ে যায়। ফলে নিয়মিত ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে অনেকেই অনিয়মিত বা নিম্নমানের খাবারের উপর নির্ভর করেন, যার ফলে পুষ্টিহীনতার সমস্যাও দেখা দেয়।

এই পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও স্বস্তি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সপ্তাহে অন্তত একদিন খাবার বিতরণের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেলে এই অন্নসেবা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত এক হাজার থেকে দেড় হাজার মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও বিশেষ তিথিতে সেই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়

এদিন ছিল পুরুষোত্তম মাসের একাদশী তিথি। তাই কর্মসূচিকে ঘিরে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ এই দিনে সাধারণ চাল-ডালের খিচুড়ির পরিবর্তে একাদশী উপযোগী শ্যামা চালের খিচুড়ি প্রস্তুত করে বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের দাবি, এদিন প্রায় ১,৮০০ জনের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে।

উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন আরও বড়। তাঁদের লক্ষ্য ভবিষ্যতে সপ্তাহে সাত দিন, দিনে তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করা, যাতে শিশুমঙ্গল ও চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসপাতালের রোগীদের পরিজনদের অন্তত খাবারের চিন্তা না করতে হয়। চিকিৎসার কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবসেবার এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই বহু মানুষের কাছে আশার আলো হয়ে উঠেছে।
মানবিকতা, সেবাভাবনা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য মেলবন্ধন হিসেবে ভক্তি বেদান্ত অন্নক্ষেত্রের এই কর্মসূচি আজ কলকাতার স্বাস্থ্যপরিসরে এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

